You are currently viewing নুসরাত সুলতানাঃ দুইটি কবিতা

নুসরাত সুলতানাঃ দুইটি কবিতা

নুসরাত সুলতানাঃ দুইটি কবিতা

রয়ে যাবে

যখন থাকব না আমি
থেকে যাবে ঘাসের বুকে লেপ্টে
থাকা শিশিরের প্রণয়।
থেকে যাবে প্রসারিত মধুর চাক —
জামের ঘণ নিবিড় ডালে।
কোনো দস্যু বালিকা ছুড়ে দেবে ঢিল।
মৌমাছিগুলো পাগলের মতো খুঁজবে তারে।
যেদিন চলে যাব এই রক্ত ক্লেদাক্ত জীবন ছেড়ে —
সেদিনও রয়ে যাবে অপুষ্টিতে ভোগা–
নগ্ন নিতম্ব, তরমুজ সদৃশ মোটা পেট,
মাছের ডিমের মতো লেপ্টে থাকা সর্দি ভরা নাকের
শিশুটির পরম সুন্দর হাসি।
রয়ে যাবে কর্মজীবি তরুন-তরুনীর —
পাবলিক বাসে দাঁড়িয়ে ঝুলে ঝুলে অফিসে যাওয়া।
হয়তো কোনো তরুণের অসাবধানী হাত
ছুঁয়ে যাবে তরুণীর ডাসা, পুরুষ্টু স্তন।
থেকে যাবে দলবেঁধে কোরাস গেয়ে–
ক্লান্ত পাখির নীড়ে ফেরা।
রয়ে যাবে নদীর বুকে পালতোলা নৌকার পাল।
থেকে যাবে প্রেমিক-প্রেমিকার ঘন নিঃশ্বাস।
আমিই চলে যাব–
রয়ে যাবে প্রাচূর্যে টইটম্বুর
অগনিত রুপালি পেয়ালা।

বিরহ

বিরহকে তুমি যে নামেই ডাকো
হাসনুহেনার ঘ্রাণ
বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ
অথবা মাধবীলতা
আমি তারে ডাকি নিপাট কষ্ট নামে
যে প্রেমের স্পর্শ পায়নি সেই জানে
পিপাসায় বুক ফেটে যাওয়া পথিকের
জলের তেষ্টা
তেমনি প্রেমের স্পর্শ যে মানুষকে কতটা
পরমায়ু দিতে পারে
সে জানে আমার মতো প্রাণহীন ফসিল
সেহেতু বিরহের কোনো মাধূর্য
আমি অন্তত খুঁজে পাইনি
আচ্ছা সিদ্ধার্থের স্ত্রী যশোধারা
কী খুঁজে পেয়েছিলেন বিরহের অমল-ধবল সৌন্দর্য!
***************************

Leave a Reply