বিকাশ দাশঃ তিনটি কবিতা
তুমুল বৃষ্টির সংসার
———————————————–
বৃষ্টি হচ্ছে পারিবারিক ঝগড়ার মতো
কান্নাগুলি কুড়িয়ে নিচ্ছে অপাপবিদ্ধ শিশু ।
বৃষ্টি হচ্ছে তুমুল ভাবে আমার শরীরে
আমৃত্যু ক্ষোভের ভেতর জন্ম নিচ্ছে অপূর্ণ সকাল।
ছেঁড়া জামার বোতামের মতো এক টুকরো শীত
আশ্রয় নিয়েছে ধানের নাড়ার ভেতর।
শীতঘুম আর জন্ম কালের ভেতরে বৃষ্টি হচ্ছে
ধোঁয়াটে পাহাড়ের জরায়ু ছিঁড়ে।
কথার গর্ভে কথা চাপছে
সংযম থেকে ছিটকে বেরোচ্ছে আমাদের প্রজন্ম ।
আমরা চোখের উপর ওড়না ঢেকে আছি
অন্নের ভেতর ঘুমিয়ে আছে ভাবিকাল।
জন্ম ঋণ
———————————————-
একটি রাত পেরোলেই
নতুন রাতের বালিশ সুগন্ধি বুনলে
আমার উপোষী দিন তোমার হাতের নির্মাণ হয়ে গেলে
আমিও লাজের উঠোনে উন্মুক্ত করে দেব এই গৃহবাস।
এতকাল রাতের প্রতিটি কথা
সত্যি হয়ে ফুটে উঠবে কয়েকটি তারায়
যে বিচ্ছেদ জন্মদাগ রেখে ঝর্ণার জলে পা দোলায়
তার শেষ ফোনালাপের অনুরণন বনে প্রান্তরে একলা পথিক।
আশীর্বাদ চেয়েছে শিশির বসন্তের পা ছুঁয়ে
এক রাতের কথা কেমন হেঁটে যাচ্ছে অন্য রাতের দিকে
আমি সুখ লিখে রাখি তোমার ঠোঁটে নির্ভার
এক জন্মের শোধ, যত যতিচিহ্ন।
বালিশ বিসর্গ হলে
—————————————–
এপারে আমি আর ওপারে তুমি
আমাদের মাঝখানে একটা বালিশ
কেমন বিসর্গ হয়ে আছে।
দন্ত্য বর্ণের তৃতীয় আর কণ্ঠ্য বর্ণের দ্বিতীয়
আমি আর তুমি এবং আমাদের দাম্পত্য।
আমরা চুপ শুয়ে আছি
কিছু সন্তাপের উপর তা দিয়ে
বাশিশের কোনো তাপ নেই, যতটা অসূয়া
ঠিক ততটাই ক্যামোফ্লাজ অসুখ
ঠিক যতটা অন্তর্ভেদী।
এপাশে আমি আর ওপাশে তুমি
মাঝখানে বালিশ কেমন
অযোগবাহ হয়ে খেলছে কৃপণ।
“দুঃখ ‘ বললে ততটা দুর্বোধ্য লাগে না
বালিশ কেবল বিসর্গ হয়ে দুঃখ বোনে
আমাদের রাত কাঁথায় ।
***************************
