গবেষক আহমদ মমতাজ-এর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে
আজ ৯ই মে বিশিষ্ট গবেষক আহমদ মমতাজ-এর মৃত্যুবার্ষিকী। একজন একনিষ্ঠ গবেষক ও শিক্ষানুরাগী আহমদ মমতাজ ছিলেন আঞ্চলিক ইতিহাসের একজন জহুরি। তার গবেষণায় উঠে এসেছে বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অজানা ইতিহাসের তথ্য-উপাত্ত। তার অনেক গবেষণাকর্ম বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
(আয়াতুল্লাহ সোলায়মান চৌধুরীর পোস্ট থেকে নেয়া অংশ নিচে দেয়া হলো)
আহমদ মমতাজের জীবনও কর্ম এত বিস্তৃত ক্ষুদ্র জ্ঞানে তাঁর সম্পুর্ণ জীবন বর্ণনা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। ওনার সাথে পরিচয় ও আনাগোনা জীবনের শেষ দশ বছর আগ থেকে আমি ওনার ভক্ত নিয়মিত পাঠক ছিলাম প্রবাস জীবন থেকে মাঝে মধ্যে ফোনে কথা বলতাম। এই ক্ষুদ্র লেখাটির উদ্দেশ্য হচ্ছে এই মহান মনীষী পুরুষ কে স্মরণ করা মাত্র।২০শে জুন ১৯৬০ সালে চট্রগ্রামের মীরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের পশ্চিম আলিনগর গ্রামে সিলেট বিজয়ী আওলাদে রাসুল সিপাহসালার সৈয়দ নাছির উদ্দিনের বংশে জম্ম গ্রহণ করেন আহমদ মমতাজ। আসল নাম মমতাজ উদ্দীন ডাক নাম মহব্বত আলী পিতা আবদুল বারি মাতা আমেনা খাতুন বড় দুই বোন জাহানারা বেগম ও বিলকিস আরা বেগম আহমদ মমতাজ ছিলেন দুই বোনের এক মাত্র ভাই। তিনি ১৯৭৬ সালে এস এস সি ও চট্টগ্রাম কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে এম এ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৭ সালের ১১ই জুলাই কবি রাইহান নাসরিনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কর্ম জীবনে শিক্ষকতা ব্যাংক কর্মকরতা সাংবাদিক সম্পাদক গবেষণা এবং মুদ্রন প্রকাশনা শিল্প এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাএকাডেমির সহকারি পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন। সমাজিক জীবনে তিনি নিজ এলাকায় রাস্তা ঘাট মসজিদ নির্মান বিদ্যুৎ আনায়ন ফেনী নদীর পাড় ভাঙ্গন রোদে তিনি বলক বসানোর জন্য সরকারি ভাবে একাই বিশেষত অবদান রাখেন না হলে এত দিনে আমলি ঘাট ও অলিনগর গ্রাম ফেনী নদীর গর্ভে ভেসে যেত। আহমদ মমতাজ জীবনের বেশি ভাগ সময় পেশাগত কারণে ঢাকায় থাকতেন দুই ঈদে গ্রামে এসে ঈদুল ফিতরে গরীব মানুষের মাঝে ছোট ছোট বাচ্চাদের জন্য সহ নতুন কাপড় নিয়ে আসতেন বয়স অনুযায়ী নারী পুরুষ সবাইকে কাপড় দিতেন এবং ঈদুল আজহাতে গরু জবাই করে গরীব দোস্তদের মাঝে মাংস বিলিয়ে দিতেন গরীব ছাত্র ছাত্রী ও বিবাহ উপযুক্ত মেয়েদের নিজের সাধ্যমত আর্থিক সাহায্য করতেন।আমাদের এই মহান লেখক সত্তা জীবনে চার দশক ধরে ইতিহাস ঐতিহ্য তথ্য উপাত্ত সংগ্রহে অবিরাম ছুটেছেন দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বিরামহীন এমন কি তথ্য সংগ্রহের ভালবাসার টানে ভারতে ও গিয়েছেন একাধিক বার। আহমদ মমতাজের ৬ শতাধিক প্রবন্ধ বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও গবেষণা জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ছোট বড় সব মিলিয়ে ৩০ টি গ্রন্হ প্রকাশ হয়েছে। এখানে বেশ কয়েকটি নাম উল্লেখ করতেছি। (১) মীরসরাইর ইতিহাস ও সংস্কৃতি (প্রকাশ কাল ২০০৪) (২) চট্রগ্রামের সূফী সাধক প্রথম খন্ড (প্রকাশ কাল ২০০৪) (৩) চট্টগ্রামের সূফী সাধক দ্বিতীয় খন্ড (প্রকাশ কাল ২০০৫) (৪) খ্যাপা খুঁজে ফেরে (প্রকাশ কাল ২০০৬) (৫) চট্টল মনীষী (প্রকাশ কাল ২০১৩)(৬) শতবর্ষে চট্টগ্রাম সমিতি ঢাকা (প্রকাশকাল ২০১১) (৭) শামসের গাজী (প্রকাশ কাল ২০১৩) (৮) বিপ্লবী বিনোদ বিহারী (প্রকাশ কাল ২০১৫) (৯) মুক্তি যুদ্ধের কিশোর ইতিহাস চট্টগ্রাম জেলা (প্রকাশ কাল ২০১৮) (১০) বাংলাদেশ কমনওয়েলথ যুদ্ধ সমাধি (প্রকাশ কাল ২০১৮) (১১) মুক্তিযুদ্ধের বীর গাথা (প্রকাশকাল ২০১৮) (১২) চট্টগ্রামের লোকজ সংস্কৃতি (প্রকাশকাল ২০২০) (১৩) বাহান্নর ভাষা সংগ্রামী (প্রকাশকাল ২০২০) (১৪) পলাশি থেকে ঢাকা (প্রকাশকাল ২০২০) (১৫)শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু (প্রকাশকাল ২০২০) (১৬) তালবাড়িয়া গণহত্যা (প্রকাশকাল ২০২০) (১৭) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চট্টগ্রাম জেলা (প্রকাশকাল ২০২০) (১৮) ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে চট্টগ্রাম (প্রকাশকাল ২০২১)। তিনি বাংলাএকাডেমির উদ্যোগে প্রকাশিত “বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্হমালা ” শিরোনামে ৬৪ খন্ডে ৬৪ জেলার লোকজ সংস্কৃতির সংগ্রহসালায় চট্টগ্রাম লোকজ সংস্কৃতি সম্পাদনায় মূখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। আরও একটি উল্লেখযোগ্য কথা হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের পাঠ্যসূচিতে আহমদ মমতাজের তিন টি গ্রন্হ পড়ানো হয়।(১) মীরসরাইর ইতিহাস ও সংস্কৃতি (২) চট্টগ্রামের সূফী সাধক প্রথম খন্ড (৩) চট্টগ্রামের সূফী সাধক দ্বিতীয় খন্ড। জীবদ্দশায় ব্যক্তি জীবনে তিনি হয়ে উঠেছিলেন অসাধারণ ও একটি প্রতিষ্টানের মত। মাত্র ৬০ বছর বয়সে ২০২১ সালের ৯ই মে তাঁর যোগ্য উত্তরসূরী প্রিয়তমা স্ত্রী কবি রাইহান নাসরিন ও অসংখ্য ভক্তদের শোকসাগরে ভাসিয়ে বনাঢ্য কর্মময় জীবন ছেড়ে মহামারি করুনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেহত্যাগ করেন। এখন তিনি জন্মস্হান পশ্চিম আলিনগর গ্রামে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।
************************
