You are currently viewing অন্তর চন্দ্রঃ দুইটি কবিতা

অন্তর চন্দ্রঃ দুইটি কবিতা

অন্তর চন্দ্রঃ দুইটি কবিতা

কালসূত্র

এই যে—
আলোকলতা শুনুন…
কুক্কুরীপা মরে যাবেন
শূন্যে নেমে আসুন—

ঐ যে রেখা—
সব শূন্য করে দেয়
ধ্যানস্ত্ব হোন
পুড়ে যাচ্ছে
একটা বাড়ি
পাতার মর্মর শুনুন….

পুড়ে যাচ্ছে নেপালের রাজ-দরবার
কেঁদে দিচ্ছি আমি
মনে হচ্ছে….
একটা লাইব্রেরী
বহুদিন বেঁচে থাকার পর
আত্মহত্যা করে ফেলেছে

আপনিও কাঁদছেন
এই যে, শুনছেন—ভুসুকুপা

মহারৌরব

কারো হৃদয় চিবোতে গিয়ে প্রতিবার লক্ষ্য করলাম
আমি আমাকেই দাঁতের কোরকে চিবোচ্ছি
টুথপেস্টের ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি কুলকুচির বিভৎস আয়োজনে
আমাকেই বারবার দেখে অবাক হয়েছি
জেনে ফেলেছি, আমার ব্যক্তিগত মৃত্যু ও তার সরঞ্জাম।
আমার প্রেমিকাকে প্রতিমূহুর্তে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছি
আমিই সেই আদিম পাপ;
অন্তর তুই মরে যা
তোর পঁচা চামড়ার শরীর খসে পড়ুক
তোর কবিতা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে যা
সবাই জানে, তুই একটা নষ্ট কবিতা
পৃথিবীর স্টুপিড চরিত্রে ডাস্টবিনের উচ্ছিষ্ট!
আমি হতে পারতাম পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা মানুষ
সেরা চাদর গায়ে দিয়ে দেখাতে পারতাম—কতটা পরাশ্রয়ী
স্পর্শকাতর জিহ্বা দিয়ে চেটে খাচ্ছি ডাস্টবিন;
নর্দমার কীট থেকে বিগত জন্মের স্বভাব
গ্রহণযোগ্য হবে—তোমাদের ইতিহাসে
কৌরব থেকে রৌরব দেখে ফেলা মানুষ আমি
হা-ভাতের প্রতিগ্রাসে গ্রহণ করেছি—অনন্ত আয়ুরেখা।
আমার নিজের ছেঁড়া শার্টের বোতাম লাগানো বিকেলে
রাজধানীর অমরাবতী থেকে ছোট শিল্পের কারখানাজাত ইউনিটে
প্রতিবার টের পেয়েছি— নির্ভেজাল স্বরবর্ণের রাত
মুক্তস্বরের অনির্বাণ সংকেত আমার প্রাণকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে—অসীমের অভ্যন্তরে;
উইপোকার নির্মাণ শ্রমিক ধূলোয় মিশে যাচ্ছে
শিল্পের কদর বলতে আত্মহত্যার প্রকৃত উদাহরণ
কোথাও পড়ে থাকা হৃদয়ের টুকরো চামড়ার ব্যাগে ঝলসে উঠছে
স্বপ্নে বিভোর কেউ আমাকে খেতে ডাকলেন ডাইনিং টেবিলে
আমি শোকজ হয়ে ফিরে আসছি—আমার সন্নিকটে!
আমার শেষকৃত্য সম্পন্ন করে প্রতি রজনীতে
কারও হৃদয় ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে ছিল না বিধায়
প্রতিমূহুর্তে মৃত্যু উৎযাপনের উৎস খুঁজেছিলাম—পৃথিবীর মর্মকোষে।
***************************

Leave a Reply