রোখসানা ইয়াসমিন মণি’র কবিতা
এপ্রিল রেইনস মেলোডি
আজ কত বৃষ্টি
এপ্রিলের রাতে নেমে
কী যেনো ওড়ালো,
প্রতিটি ফোঁটা
গোলগাল বুদবুদের
গোড়ালি কেটে,
জ্যোৎস্নার দাবদাহ পোড়ালো।
মরা পাখির মত চাঁদের মুখ
জেগে থাকে এপ্রিলের ভরসায়,
হয়ত আকাশের আঁচল খসে
মেঘের বুকে লুকাবে সহসাই।
শাদা জ্যোৎস্নাতে ভিজে
মুছে যায় জীবনের শোক,
বৃষ্টি ধোয়া জানলা জুড়ে
জেগে থাকে একজোড়া চোখ।।
ভুল নাম
আমার শিয়রে রাত এলে পরে
অকারণ কে যেন মাতলামি করে
আমার শিয়রে নাচে তারার ঘুঙুর
চোখ তার ঝুমঝুমি মায়ার নুপূর,
আমাকে কে যেন আলগোছে ডাকে
এই বিষণ্ণ চুপচাপ কালবোশেখে;
কে ডাকে বুকের ভেতর ঘুমঘুম ফল?
হাতভরে ছেঁকে আনে মহুয়ার বোতল,
কে যেন কালো খোঁপায় বসে ভুল করে
স্বপ্নঘোরে ভালবেসে চিনেছি যারে।
জলছাপ
সে এক অমোঘ চৈত্র— তপ্ত ও তৃষ্ণার্ত,
যেখানে ছায়ার শরীর ধোঁয়াশায় আবৃত;
পিছুটান নেই কোথাও তবুও তাকে
ফিরায়ে চাইতে দেখি, হৃদয় যে রিক্ত।
যে নদী হারায় তার কূলের সীমানা,
সে বোঝে মায়ার টান কতটা গভীর;
স্মৃতিরা মেঘের মতো করে আনাগোনা—
ভেজাতে পারে না শুষ্ক মরুর শরীর।
যুগল চোখের পাতা যদি যায় ভিজে,
সে কান্না মহাকাল করবে কি পাঠ?
সবকিছু হারানো জেনে গেছি নিজে—
তুচ্ছ লাগে পৃথিবীর হাট,ঘাট, মাঠ ।
অক্ষরহীন মহাকাব্য
ওরে বাতাস!
তুই কি আমার খড়ের চালার
গোপন কাঁপন ছুঁয়ে যাস?
দূর আকাশের নীলের ভাঁজে
কার কান্নায় ভাসিস আজ?
তুই কি তবে ধানের ক্ষেতে
দুলে ওঠা সবুজ গান?
নদীর জলে হারিয়ে যাওয়া
একলা কোনো ভাঙা টান?
নাকি তুই হালচাষির
কাঁধে জমা ঘামের লবণ?
সূর্য ওঠার আগুনরঙায়
ক্ষেতের বুকে জ্বলা জীবন?
নাকি তুই দিনে- রাতের
ঢেঁকির ছন্দের প্রাচীন গান,
নকশিকাঁথার সেলাই জুড়ে
বিচিত্র সব অভিমান?
নাকি তুই মায়ের আঁচল—
শুকোতে দেওয়া দুপুরবেলা,
শৈশব মাখা উঠোন জুড়ে
রং-বেরঙের স্বপ্ন খেলা?
তুই কি তবে সেই অদৃশ্য
না দেখেও ছুঁয়ে থাকা?
অক্ষরহীন এক মহাকাব্য
শূন্য খাতার পাতায় আঁকা!
স্বপ্নচারু
আমিই তোমার পড়ার ভাষা
বুকের বাড়ি; স্বপ্নচারু চেনো?
জানোই যদি, পানকাতুরে
ছল দেখিয়ে দুঃখ কেনো কিনো?
রোদ জমিতে উথলে ওঠে
নোনা আবেগ অক্ষমতার স্বাদে,
নিঃশ্বাসের ওই কোটর কাঁপে
ভাসান মেঘে তোমার বজ্রনাদে!
কিছু শব্দ দরজা খুলে
ছিঁড়তে থাকে বিষম বিহ্বল,
শ্বাস ধনুকের ওঠা-নামায়
বুকের ভেতর তোমার কোলাহল!
তোমার বাড়ি, বুকটা কোথায়?
জানতে যদি জমাটবাঁধা স্বরে,
বিন্দু বিন্দু সাধ এঁকেছে
স্বপ্নচারু, তোমার মনের ঘরে।
************************
