You are currently viewing শিবালোক দাসের কবিতা

শিবালোক দাসের কবিতা

শিবালোক দাসের কবিতা

উত্তর হল–

আমার মতে, আমার কবিতা মানুষের ভিড়ভাট্টা, অলিগলি ঘুরে আসুক এবং সেটাও স্বচ্ছন্দে। কারণ আমি মনে করি কবিতা বাতাসের মতো, তাকে অনুভব করা যায় , কিন্তু স্পর্শ করা বা দেখা যায় না।

অবাধ বিচরণ থাকে মানুষের হৃদয়পুরে। কিন্তু আবার এটাও ঠিক যে সব হাওয়া যেমন আপনাকে থমকে দিতে পারে না , কিছু হাওয়া যেমন‌ ভারী, হালকা বা ক্ষণিকের জন্যেই ছুঁয়ে যায়, তেমনি কবিতাও তাই…

তাই  আমার কোন‌ কবিতা অলিগলি ঘুরে কোন জায়গায় থমকে দাঁড়াবে, সেটার হদিস হৃদয়পুর ই দিক, আপাতত ঘুরে তো আসুক! বাতাসের মতো, ধীর পায়ে..

 

স্পেকট্রাম

ওপারে নীরব শয্যায় ছুঁয়ে যাচ্ছে সমুদ্র,

তাকে দাও লবণ স্বাদ, দাও তাকে পরোয়ানা

সমস্ত সম্ভাষণে…

জ্বেলে রাখো। নিঃশব্দ রেখায়।

 

সেই বুনে যাওয়া ধূলোবালি, যার গন্ধ

আজও ডেকে আনে নিঃশব্দ জোনাকি,

নিঃশব্দে দুহাত রাখে–

তাকে দাও, স্পর্শ করুক

পূর্ণ মুঠো….

 

কতবার সাক্ষাৎ চিনতে, আমি তাকে

পরিপূর্ণ দেখি কৃষ্ণপক্ষের কলঙ্কে..

 

সন্ন্যাসে অতলস্পর্শ ভোর…

 

একটি ফুঁ

একটি ফুঁয়ে কত সমারোহ,

রয়েছে খেলা,

হেঁটে যাই সাদা কালোয়…

 

তবুও, পূর্ণ হতে পারি না।

সন্ধানে যাকে আনন্দ বলি, সেই

আমাকে করেছে শূন্য—

ঘন শ্বাসে ঘুমিয়ে পড়লাম বলে

তুমি কোনোদিন দেখাওনি আঁচে কিভাবে

ভাসাতে হয় তন্দ্রাহত ঘর…

 

এইমাত্র আগুন জ্বলল আমার একরত্তি শরীরে !

 

গভীর

 

ঈষৎ ঝুঁকে নিজেকেই দেখি,

কতটুকু উষ্ণ হল বাতাস ?

 

ফিরে যাওয়ার আগে‌ বদল করি নকশা,

ঝরে যায় অদৃশ্য আর্দ্রতা,

 

একটি দিন রাস্তা বদলায়—

 

ভাবি, যে মুখ নিবিড় করেছে আমায়,

কিভাবে চাইব তার থেকে ফেলে আসা

সৎ কঙ্কাল ?

 

নিহত সাপের আকারে

নিহত সাপের আকারে বসে থাকি,

তারামগ্ন স্বরে ব্যর্থ যে জলাশয় থেকে

এতদিন তুলেছি বিন্যাস,

তাকে শেখাই ব্যবধান।

তাকে সমস্ত অনুমানে করি অরণ্য—

 

নিহত সাপের আকারে ব্যাহত হয়েছে যাবতীয় নুন…

 

যে দিন আমার আগুনে ছিঁড়ে গেল,

গোপনে ফেলে গেল সঙ্গম, সঙ্গীতে;

সে জানে, কল্পিত শ্বেত‌ কখনো ফেরে

না ঘাসের বিহ্বলতায়…

 

অতি

বালির মতোই, শান্ত..

তবে নিষিদ্ধ অতিক্রমে

উষ্ণ হয়েছে যে হাত,

মন্ত্র নেই কি ?

গোপনে রাখো ক্ষুধা,

গোপনে রাখো দৃশ্য…

ইঙ্গিতে পেতে রেখেছ যে

বাগিচা, তার পরিচয়, তোমারই

কৃষ্ণাক্ষরে…

দেখো, আলোকে এখনো অনুচিত

এই মুগ্ধতা…

করিনি পূর্ণ, তবু, যখন আমাকে

নিমর্মভাবে ডোবাও,

শরীরে আজও বুনতে বুঝতে

ধর্মকে মারে তরঙ্গে…
************************

 

 

 

Leave a Reply