You are currently viewing টোমাস ট্রান্সট্রোমারের কবিতা || ভাষ্য ও ভাষান্তর: জুয়েল মাজহার

টোমাস ট্রান্সট্রোমারের কবিতা || ভাষ্য ও ভাষান্তর: জুয়েল মাজহার

টোমাস ট্রান্সট্রোমারের কবিতা
ভাষ্য ও ভাষান্তর: জুয়েল মাজহার

একনজরে টোমাস ট্রান্সট্রোমার

”Transtromer’s roots are deep into the land of poetry”—Adonis
‘‘সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন একজন মনোবিদ, যিনি তাঁর কাজের অবসরে কালেভদ্রে-লেখা কবিতার ছত্রে তুলে আনেন প্রতিদিনের জীবনরহস্য; গাড়ি চেপে কাজে যান, সূর্য ওঠা দ্যাখেন অথবা রাত নামার প্রহর গোনেন।’’ ২০১১ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারজয়ী সুইডিশ কবি টোমাস ট্রান্সট্রোমার সম্বন্ধে এই কথা ক’টি লিখেছিল সংবাদ সংস্থা এপি।

জীবনের এইসব অতিসাধারণ মুহুর্ত আর নীরব পালাবদলের প্রতিটি সময়খণ্ডকে বাঙময় করেন তিনি নিরাভরণ শব্দে, শান্ত ধূসর অনচ্ছ রঙে, অচঞ্চল তুলির পরশে; আর সেসব মুহুর্ত আয়নার ভেতরে প্রতিফলিত হয়ে বারবার ফিরে ফিরে আসে, মুখ বাড়িয়ে দ্যায় নানা অলিন্দে, জানালায়।অজস্র চিত্রকল্পে, উপমায়-রূপকে। তাঁর কবিতা খুবই আটপৌরে বিষয় নিয়ে রচিত। এমনসব বিষয় নিয়ে যা সব মানুষেরই জীবনে থাকে—–যেমন স্বপ্ন।’’

কবি হিসেবে তো বটেই, খুবই উঁচুদরের এক পিয়ানোশিল্পীও ছিলেন। ১৯৯০ সালে স্ট্রোক করার পর আমৃত্যু প্রায়-বাকরহিত ছিলেন কবি। শরীরের ডানদিক অবশ। লেখালেখিও অনেকাংশে গিয়েছিল থমকে। কিন্তু তাঁর একহাতের নিপুণ আঙুলরাশি পিয়ানোতে তবু বইয়ে দিতে পারতো উচ্ছ্বল সুরের ঝর্না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তীকালে সবচে’ প্রভাবশালী স্ক্যানডিনিভীয় কবি হিসেবে স্বীকৃত তিনি। কম করেও ৬০টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে তাঁর কবিতা।

নোবেল জয়েরও আগে বহু আন্তর্জাতিক কবিতা-পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এসবের মধ্যে আছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউস্টাড্ ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ফর লিটারেচার (the Neustadt International Prize for Literature), বোন্নিয়ের কবিতা পুরস্কার (Bonnier Award for Poetry), জার্মানির পেত্রার্ক পুরস্কার (Petrarch Prize), দ্য বেলমান প্রাইজ (the Bellman Prize), সুইডিশ একাডেমির নরডিক প্রাইজ ও দ্য অগাস্ট প্রাইজ (Nordic Prize, and the August Prize)।

১৯৯৭ সালে সিটি অব ভাস্টেরাস (Västerås) কর্তৃপক্ষ স্পেশাল ট্রান্সট্রোমার প্রাইজ নামে তাঁর সম্মানে এক নতুন পুরস্কার প্রবর্তন করে। ২০০৭ সালে বিখ্যাত গ্রিফিন ট্রাস্ট (the Griffin Trust) –এর ট্রাস্টিবোর্ড কবিতায় জীবনব্যাপী অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে স্পেশাল লাইফটাইম রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ডে (special Lifetime Recognition Award) ভূষিত করে। অ্যানুয়েল গ্রিফিন কবিতাপুরস্কারও (annual Griffin Poetry Prize) এরাই দিয়ে থাকে।

ট্রান্সট্রোমারের কবিতার অসামান্যতা প্রতিদিনের জীবনের অতি সামান্য বিষয় নিয়ে; সামান্যই সেখানে হয়ে ওঠে অসামান্য।

ট্রান্সট্রোমারের স্বদেশি জীবনীলেখক স্তেফান বার্গস্টেন (Staffan Bergsten) বলেছেন, মানুষ, প্রকৃতি আর অতিসাধারণ আটপৌরে বিষয়ের সমবায়ে গড়ে ওঠা তাঁর কবিতা পড়ে প্রতীতি হয়, ‘‘আড়ালে হয়তো রয়ে গেছে গহনতর কিছু। সেখানে নেই কোনো অচেনা শব্দবাহুল্য। সবার কাছেই কমবেশি বোধগম্য, তথাপি সেখানে অন্য এক মাত্রা থেকে যায়।’’

তিনি ‘বাস্তবতায় নতুন প্রবেশাধিকার’ দেন পাঠকের চোখ আর কানকে। তাঁর কবিতা রচিত হয় তাঁর নিজেরই অভিজ্ঞতার জগৎ ঘিরে। আর এর ভেতর পোরা থাকে তাঁর সঙ্গীতপ্রেম ও প্রকৃতিপ্রেম। তাঁর কবিতায় এ-দুটোই পরস্পর হাত ধরাধরি করে চলে। সেই সঙ্গে তাতে প্রচ্ছন্ন থাকে ইতিহাসচেতনা, মানব-অস্তিত্ব আর মৃত্যুচেতনা। আর এসবকিছুই উঠে আসে অসংখ্য অনাস্বাদিতপূর্ব চিত্রকল্পে, উপমায় আর রূপকে।

‘‘তাঁর কবিতায় এক ধরনের নিরাভরণ আর সূচিভেদ্য অন্তর্মুখ আছে যা খুবই আকর্ষক’’–এই মূল্যায়ন ট্রান্সট্রোমারের নির্বাচিত কবিতার সম্পাদক পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী মার্কিন কবি রবার্ট হ্যাস (Robert Hass)-এর।

ট্রান্সট্রোমারের জন্ম ১৯৩১ সালের ১৫ এপ্রিল স্টকহোমে। বাবা গোস্টা ছিলেন সাংবাদিক আর মা হিল্মি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। কিন্তু ট্রান্সট্রোমারের বাবা-মার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় যখন তাঁর বয়স মাত্র তিন। সেই থেকে বলতে গেলে বাবার সান্নিধ্য আর পাননি। মায়ের কাছেই বড় হন ট্রান্সট্রোমার।

ট্রান্সট্রোমারের কবিতা পড়ে মাঝেমাঝে মনে হয় তিনি আমাদের ছেড়ে দেন এক প্রশ্নময় পৃথিবীতে। আর পাঠক দাঁড়িয়ে থাকে এক অচেনা সীমান্তে; কেননা তিনি মনে করেন, ‘‘সীমান্তেই দেখা মেলে সত্যের– truth appears only at the borders.”

কবিতা তাঁর কাছে সক্রিয় ধ্যানেরই মতো। ১৯৭১ সালে হাঙ্গেরীয় কবিদের কাছে লেখা এক খোলা চিঠিতে লিখেছিলেন ট্রান্সট্রোমার: ”কবিতারা হচ্ছে সক্রিয় ধ্যান…তারা আমাদের জাগিয়ে তুলতে চায়… ঘুম পাড়াতে নয়”— ”Poems are active meditations, they want to wake us up, not put us to sleep,”

তাঁর কবিতায় রাজনীতির রঙমশাল জ্বলে না; তবে জীবনের আশ্চর্য সব রঙের দেখা মেলে সেখানে; যে রঙ অনুগ্র; শব্দেরাও মৃদু আর প্রায়-অনুচ্চারিত। উষর সমুদ্রবেষ্টিত গ্রানিট-অরণ্যের পথে, চিরতুষারে ঢাকা বার্চ আর পাইনের বনে, শান্ত-স্তব্ধ লোকালয়ের আবছা ধূসর পটভূমির ভেতর, বাল্টিক সমুদ্রের ঢেউয়ের বিভঙ্গে, আর চির অনুজ্জ্বল এক সূর্যের ভেতর কতো মৃদু গুঞ্জরণ, শান্ত অচঞ্চল এক জগৎ চারপাশে ব্যাপ্ত হয়ে থাকে। পূর্ণচাঁদ-জেগে-থাকা আকাশের নিচে প্রকাণ্ড হাতছানির মতো খোলা প্রান্তর; হঠাৎই সেখানে এক রেলট্র্যাকের ওপর রাত ২টায় ট্রেন এসে থামে। বাঙালি কবি জীবনানন্দ দাশের সাথে কোথায় যেন মিল; যেনবা ‘‘যে মাঠে ফসল নাই তাহার শিয়রে চুপে দাঁড়ায়েছে চাঁদ।’’

মৃদু, নির্জন, চিরপ্রশমিত, স্বল্পবাক, মুগ্ধ, বিমূঢ় এক পথিকের, এক অন-লুকারের অভিজ্ঞতার জগৎ শুধু ব্যাপ্ত হতে থাকে পরকলার ভেতর; ছবির পর ছবি, অরণ্যে ছোট্ট কোনো পোকা নিখিলের অন্তহীন প্রাণ জাগিয়ে রাখে নিজের ভেতর; বনবেড়ালের পদচ্ছাপখচিত অরণ্যপথ, শাখা-শৃঙ্গের মুকুট নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক মদ্দা হরিণ, অতিকায় ওকগাছ, গুবরেপোকা—–দৃশ্যের ভেতরে দৃশ্য, স্ক্যানডিনিভীয় প্রকৃতির প্রগাঢ় নিবিড় একাকিত্ব। আর স্বপ্নের ভেতর জেগে থাকা ঘুমন্ত মানুষেরা অজানা গ্রহের পানে ডানা ভাসায় দূরে। আর পরক্ষণেই আচমকা ধাক্কায় তাদের স্বপ্ন খান খান। প্যারাশুটে চেপে তারা আবার নেমে আসে বাস্তবের রূঢ়-কঠিন মাটিতে।

২০১৫ সালের ২৬ মার্চ ৮৩ বছর বয়সে সুইডেনের রাজধানী-শহর স্টকহোমে জীবনাবসান হয় বিশ্বকবিতার এই বরপুত্রের।

প্রণতিমালা

ডাই মাউয়া*——দেয়ালখানি কবিতাবিদ্বেষী!
এখন তুমি চলেছ হেঁটে দেয়াল বরাবর—
ঘুরিয়ে ঘাড় চেয়ো না এর দিকে;

এই জীবনে আমরা আজ পূর্ণ-পরিণত
দেয়াল চায় ঘিরতে একে চতুর্দিক থেকে—
ছকেতে বাঁধা শহরে আর ছকের ভূদৃশ্যে

যেই না এসে বোতামে হাত রাখেন এলুয়ার
দেয়াল গেল এক নিমেষে খুলে—-
আর তখুনি খোলা বাগান রূপ দেখাল তার।

দুধের ভরা-বালতি-হাতে বন পেরোতে দেখি
বেগুনিলাল গাছের গুঁড়ি ছড়ানো দিকে দিকে।
মানত করা ডিঙ্গা যেন এমন অপরূপ
সকল গাছে ঝুলন্ত এক পুরনো কৌতুক।

পিকউইক পেপার্‌স্‌* —- একে করি গ্রীষ্মকালেই পাঠ;
তুষ্ট জীবন—- শকটখানা দাঁড়িয়ে সুস্থির
এর ভেতরে সুজন, ভালো লোকের ঠাসা ভিড়
মুদিত করো দু-চোখ আর বদল করো ঘোড়া।

দুঃখদিনে শিশু-চপল ভাবনাজাগে মনে!

মিনতি করি প্রভুর কাছে রোগীর পাশে বসে,
কিছুটা যতি পড়ুক ত্রাসে, পড়ুক তাতে ছেদ
হতেও পারে, পিকউইক যদি লাগায় তাতে হাত

মুদিত করো দু-চোখ আর বদল করো ঘোড়া

পুরোটা নয়, টুকরোতেই সহজে লোক মজে
এটাই রীতি, চলছে এমন দীর্ঘকাল ধরে….
কত না বাণী এবং কত প্রবাদ-প্রবচন
শুনছে লোকে এসব কথা সন্তদের মুখে
চার্চে যত ঘণ্টা, তাতেও আছে খোদাই করা
আর, হাজার বর্ষজীবী বীজের গায়ে লেখা।

আর্কিলোকোস*— কোনওভাবে মিলছে না উত্তর!
সাগরতীরে পাথরে ঢেউ আছড়ে পড়ছিল
আর, ওপরে গাংচিলেরা দিচ্ছিল চক্কর
সিমেননকে নিয়ে আমরা দুয়ারে খিল এঁটে
করেছি কেলি বারংবার মত্ত হ’য়ে কামে

গন্ধসহ সত্যেরও তো পাচ্ছি ঠিকই আঁচ!

গাছগুলোর মগডালের সামনেটায় দেখি,
ঝাঁপবিহীন জানলাটার স্তব্ধ পরিণাম
আর সাঁঝের আকাশটার বিদায়-লেখা চিঠি

মৃত্যু——- ব্ল্যাকবোর্ডে এর বিয়োরলিং, উনগারেত্তি, শিকি
তিনমহাজন দিলেন ঘষে জীবন-চকখড়ি।
সেই কবিতা লেখা সে তো এখন সম্ভব!

গাছের ডাল দুলছে দেখে ওপরে তাকালাম
গাংচিলেরা কালো চেরির নিচ্ছিল আস্বাদ

টীকা- ১
ডাই মাউয়া বা ডাই মাউয়ার (Die Mauer) — Die Mauer জার্মান শব্দ। এর অর্থ ‘দ্য ওয়াল’— দেয়াল। স্নায়ুযুদ্ধকালের কুখ্যাত বার্লিন ওয়ালকে ডাকা হতো এই নামে। কুখ্যাত এই দেয়ালকে ঘিরে রচিত কবিতাটিতে এলুয়ার, উনগারেত্তিসহ অন্য কয়েকজন কবির নাম এসেছে।

টীকা-২
পিকউইক পেপারস (The Pickwick Papers) —চার্লস ডিকেন্সের লেখা প্রথম উপন্যাস। এটি সমাজের উঁচু শ্রেণীর ভণ্ডামি ও মিথ্যাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে।

টীকা-৩
আর্কিলোকোস (Archilochos)— প্রাচীন গ্রিসের পারোস দ্বীপে জন্ম-নেওয়া গীতিকবি। কাব্যছন্দের নিপুণ প্রয়োগ এবং এর বহুমুখী উদ্ভাবনী প্রয়োগের জন্য কুড়িয়েছিলেন ব্যাপক শংসা। তাঁকে বলা হ’ত প্রেম ও যুদ্ধের কবি। তাঁর সব কবিতা ও গান ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে ঘিরেই রচিত।
—-(মূল সুইডিশ থেকে “Homages”—শিরোনামে Robin Fulton—এর করা ইংরেজি অনুবাদের বাংলা রূপান্তর।)
——————————————————————

তিনটি স্তবক
১.
নাইট এবং তাঁর মহাশয়া
শিলীভূত হয়েছেন; —–তবে
সময়ের বাইরে এক কফিনের
ঢাকনার উপরে তারা সুখী
২.
যিশু একটি মুদ্রা দেখালেন
তাতে তাইবেরিয়াসের মুখ আঁকা
সে-মুখে প্রেমের ছাপ নেই
বৃত্তাকারে ঘুরছে ক্ষমতা
৩.
রক্তের ফোঁটা-ঝরানো তলোয়ার
মুছে দ্যায় স্মৃতি
মাটিতে ছাতলা ধরেছে
তরবারির খাপ আর তূর্যনিনাদ।
—–(Patty Crane -এর ইরেজি অনুবাদ Three Stanzas-এর বাংলা রূপান্তর)
——————————————————————

দুটি হাইকু
১.
মানুষের আদলে পাখিগুলি
ফুলে ঢাকা আপেল গাছেরা
বিরাট হেঁয়ালি।
২.
এই যে ধূসর পাতাগুলি
ততটাই দামি
সমুদ্রের মৃত লিখনপটেরা যতটা
—(Wolfgang Peter Menzel-এর করা ইংরেজি অনুবাদ Two Haikus-এর বাংলা রূপান্তর)
——————————————————————

ঈগল-পর্বত

ভাইভারিয়াম*-কাচের আড়ালে
সরীসৃপগুলি
নড়ে না চড়ে না।

এক মহিলা নিঃশব্দে
দড়িতে ভেজা কাপড় ছড়ায়।
মৃত্যু অচঞ্চল,স্থির।
মাটির গভীরে
ধূমকেতুর মতন
নিঃশব্দে আমার আত্মা ভেসে চলে।

[ভাইভ্যারিয়াম–vivarium: এক ধরনের কাচের পাত্রবিশেষ, যাতে গবেষণা ও পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য প্রজাপতি, সরীসৃপসহ ছোট ছোট প্রাণী রাখা হয়।]
——————————————————————

আবহ-চিত্র

পিঠে মরীচিকার ডানা নিয়ে
অক্টোবরের সাগর তুলছে তার ঠান্ডা ঝলক
নৌকা-দৌড়ের ঝিমধরা স্মৃতিকে
উসকে দেবার মতো কিছু আর নেই
গ্রামের ওপরে এক স্ফটিকাভা
আর ওই দিকে-দিকে ধ্বনি উড়ে যায়
কুকুরের ঘেউ এক গূঢ়লিপি
আঁকা আছে বাগানের ওপরে হাওয়ায়

গাছকে বানিয়ে বোকা সে-বাগানে হলুদাভ ফল
আপনা থেকে নিচে ঝরে পড়ে।
—–(Fulton-এর ইংরেজি অনুবাদ Weather Picture-এর বাংলা রূপান্তর)
————————————

জুয়েল মাজহার: কবি ও অনুবাদক
*******************************

Leave a Reply