You are currently viewing তাপস চক্রবর্তীর দু’টি কবিতা

তাপস চক্রবর্তীর দু’টি কবিতা

তাপস চক্রবর্তীর দু’টি কবিতা

ঘুমোচ্ছি

ঘুমোচ্ছি- ঘুমোলেই নাকি মৃত্যু ছোঁয়া যায়?
সিথানে হেঁটে আসে রক্তগোলাপ
কোপালে ভাঁজে হয় গোলপজলের উচাটন।

বাবা বলতো তুই আমাকে ছুঁয়ে যায় রোজ
তাহলেই দেখবি
পথভরা ফুলের নিঃশ্বাস।

মা হাসতো বলতো ঘুমোলেই রুপোলি চাঁদ
সোনালি হয়ে যায়
যেমন রেলের কামড়ায় লাইট অফ হলে
বোধের পাহাড়ে জমে হালকা মরিচিকা।

রাতে ভীষণ রোমান্টিক হতে মন চাই
তাই ঘুমোচ্ছি যদি স্বপ্নে সে আসে
ফুল হয়ে।

জলশঙ্খ

মরণের সীমানা দেখোÑ ওই আস্তাবলের ঘোড়ারা যেমন
তেমন সুরে বাঁধা কাঠকয়লায় মানুষ আর পাখির মন
অথচ বৃক্ষের শিকড় জড়িয়ে রাখে মাটি আর শাখায় বাঁধে জীবন
আহ্ জীবনÑ মানুষের জীবন দোপায়ার জীবন।

তবুও মনে রেখো সমুদ্রে ছুটে চলা হে কাঁকড়াÑ রেখো মনে পিঁপড়ের সারি
সমবেত কেঁচো
মানুষের জীবনটা-ই এখন পুরোদস্তুর জলশঙ্খের মত।

আরো কতো কিছু-ই ভাবিÑ রোজ রোজ স্বপ্ন কিনি
দেখি সবুজ অরণ্য যেন মৃত মানুষের কান্নার ছবি
প্রেয়সীর রান্না করা সবজির হাঁড়িতে করতালের সুর
চটির ধূলোয় পা আর প্রিয় শৈশব আমার প্রিয় দুপুর।

তবুও সব ভুলে আরো বিবিধ নিষেধাজ্ঞা মেনে
আরো পথ সহজ ভেবে আপনে চলি।

আর ভাবি এই মধ্যবয়েসে সঞ্জিবনী সুধায় অমৃত ঘ্রাণ মেখে
যদি কখনো সুর বাঁধোÑ কোনদিন কোনো নতুন বাজারে
স্বাধীকারের মাংসের শরীর ঢাকো নতুন কেনা পাটের শাড়িতে…
অথবা আমার কাস্তে মার্কা পুরোনো মন কর বেচাকেনা
তোমার প্রথম খরিদদার জেনো আমি আমি আর আমি।

নদী-পথ-অরণ্য পেরিয়ে যেতে যেতে আমার আমিকে জেনোÑ
আমি রাত্রি নয়, আমি বৃষ্টি নয়, গ্রীষ্মের পোড়া মাটি নয়
মানুষের পঁচা-গলা শরীরে নয়
আমি ফিরে আসি রাষ্ট্র আর জলশঙ্খের সাংবিধানিক নামে।
*********************

Leave a Reply