You are currently viewing আমার কবিতা|| ঋতো আহমেদ

আমার কবিতা|| ঋতো আহমেদ

আমার কবিতা|| ঋতো আহমেদ

আমার কবিতায় অন্তর্দৃষ্টি, অন্তর্মুখী ভাবনা, মানবিক সম্পর্ক ও জীবনের সাধারণ অনুভূতি-সমূহ গভীরতার সঙ্গেই পাবেন একজন পাঠক। আমার মতে, সামগ্রিকভাবে, আমি বাংলা সাহিত্যের সেই তরুণ কবিদের প্রতিনিধিত্ব করছি যাঁরা সমসাময়িক জীবনের অনুভূতি ও ভাষার নতুন প্রয়োগকে কেন্দ্র করে বাংলা কবিতায় অবদান রাখছেন। ধীরে ধীরে আমার কবিতা প্রেম, প্রত্যাশা, অস্তিত্ব ও জীবনের সাধারণ অনুভূতির অভিব্যক্তি হয়ে আধুনিক পাঠকের মধ্যে পরিচিত হয়ে উঠছে।

বাহুল্যহীন, ধীর ও আত্মসম্মুখীন আমার কবিতায় রয়েছে অন্তর্মুখী ও চিন্তাশীল ভাষা। বড় কোনও ঘটনার চেয়ে মনের ভেতরের নড়াচড়া ধরতেই বেশি আগ্রহী আমি। প্রেম, বিচ্ছেদ, একাকিত্ব— সবই আমার কবিতায় আসে, কিন্তু সেটা আবেগপ্রবণ নাটকীয়তায় নয়, বরং শান্ত উপলব্ধিতে। প্রেম আছে— কিন্তু সেই প্রেম রোম্যান্টিক নয়। প্রেমের কবিতাগুলো শরীরী বা কাব্যিক বিলাসে ভরা নয়। বরং সেখানে আছে অপূর্ণতা, দূরত্ব, স্মৃতির ভার আর না-পাওয়ার মৃদু বেদনা। প্রেম এখানে কোনও ঘটনা নয়, বরং মানসিক অবস্থা।

আমি কে? আমি কি কেবলই সময়ের মধ্যে আটকে থাকা এক মানুষ? স্মৃতি কি আমাকে গড়ে, না ভেঙে দেয়? আমার বহু কবিতায় এইসব প্রশ্ন প্রচ্ছন্ন রয়েছে। কিন্তু সরাসরি নেই। কবিতা পড়তে পড়তে পাঠক এই প্রশ্নগুলো আপনি অনুভব করতে পারবেন। ভাষা সহজ, প্রাঞ্জল ও আধুনিক। কিন্তু একেবারে কথ্যও নয়। এক ধরনের নীরব শালীনতা আছে। শব্দ কম, অর্থ গভীর। আমার কবিতা পড়লে পাঠকের মনে হবে কবি পৃথিবীকে দেখছেন একটু দূর থেকে, কিন্তু অনুভব করছেন খুব কাছ থেকে। যেখানে কবি সময়, নগরজীবন, ক্লান্তি, ব্যক্তিগত স্মৃতি— সবকিছুকে এক ধরনের ধ্যানী চোখে দেখেন।

আমার কবিতার শুরুটা হয় খুব সাধারণ একটি দৃশ্য বা অনুভূতি দিয়ে— যেন দৈনন্দিন জীবনের ছোট্ট কোনো মুহূর্ত: একটা সন্ধ্যা, একটা স্মৃতি, একটা নীরবতা। পাঠকের মনে হতে পারে “এ তো খুব সাদামাটা।“ হঠাৎ সেই দৃশ্যের ভেতর ঢুকে পড়ে— অতীতের স্মৃতি, না-বলা কথা কিংবা নিজের সঙ্গে নিজের কথোপকথন। এখানে কোনো সিদ্ধান্ত আমি দিই না, এমনকি ব্যাখ্যাও করি না। শুধু অস্বস্তিটাকে রেখে দিই। আর শেষ লাইন সাধারণত কোনও উপসংহার নয়, কোনও নীতিবাক্যও নয়, বরং এমন এক অনুভূতিতে কবিতা থামে যেখানে প্রশ্নটা পাঠকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কবিতা শেষ হয়, কিন্তু ভাব শেষ হয় না।

পাঠকের কাছে মনে হবে আমি অন্তর্মুখী, ধীর, চিন্তাশীল ও নীরবতার কবি। যে-কবি লেখেন নিজের ভেতরের মানুষটির জন্য। পাঠক যেন কেবল নীরব কথোপকথনের সাক্ষী। আমার অনেক সমসাময়িক কবির কবিতায় সাধারণভাবে সামাজিক বক্তব্য স্পষ্ট, রাজনৈতিক বা নাগরিক চেতনা জোরালো এবং ইমেজারি আর উচ্চারণ বেশি দৃশ্যমান। তাঁদের কবিতা পড়লে “কবি কী বলতে চাইছেন” বোঝা যায়। কিন্তু আমার কবিতা কখনো পাঠককে বলে না যে “এইটা বুঝুন, বা অর্থ এইটা” — বলে “ভেতরে ঢুকে পড়ুন”। তাই এখানে কবিতাটা বোঝার চেয়ে অনুভবের বেশি।

অনেক কবিতা পাঠককে কাঁদাতে বা চমকাতে চায়। কিন্তু আমার কবিতা তা করে না। পাঠককে নিজেকেই আবেগ খুঁজে নিতে হয়, মিলিয়ে নিতে হয় নিজের সঙ্গে। প্রায়ই কোনো গল্প থাকে না, দৃশ্যের বর্ণনা কম, সংলাপ একেবারেই নেই। শুধু মানসিক প্রবাহ আছে। যারা গল্পপ্রধান কবিতা পছন্দ করেন, তাদের কাছে আমার কবিতা কঠিন। আমার কবিতা ধৈর্য দাবি করে। দ্রুত পড়া যায় না, স্ক্রল করে উপভোগ করার কোনো উপায় নেই। একটু থেমে পড়তে হয়। আধুনিক তাড়াহুড়ো পাঠাভ্যাসে এটা একটা চ্যালেঞ্জ বটে।

আমার কবিতা ভালো লাগবে যদি আপনি একা থাকতে পারেন, স্মৃতি নিয়ে ভাবতে ভালোবাসেন আর “সবকিছুর উত্তর বা অর্থ” চান না। কারণ আমি উত্তরের কবি নই, প্রশ্নের কবি।

তাকে আমরা মিথ্যে বলেছি, আর ততক্ষণে সূর্যও
প্রবেশ করেছে
পাথুরে অন্তর্দেশে।
মৃত আত্মর শুশ্রূষায়, সেইখানে, আমরা তার
নাম দিয়েছি আলোকমিতির ভূত।
কিন্তু
সিমার বলে আমরা কি চিনতাম কাউকে
কারা ওইসব বধের গল্পগুলোকে নগ্ন ছড়িয়ে দিয়েছে ব্রহ্মাণ্ডে
মানুষের মধ্যে কারাইবা বাতাস, কেইবা জল ও রক্ত—?
পাল্লা দিচ্ছে। কুরে কুরে খাচ্ছে ওই জৈব কসমস
কারও আবার অজস্র পাপ-ফোয়ারা।
আহা
তোমরাই কি স্মৃতিভ্রষ্ট ফসিল তবে
তোমাদের নীরব মৃত্যুই কি সৌন্দর্য
****************************

Leave a Reply