মেহনাজ মুস্তারিনঃ চারটি কবিতা
জীবনের সমাপ্তি
দীর্ঘ এক পথ যার একদিকে তোমাকে মনে পড়ে
অন্যদিকে গোরস্তান —-
কোমল নির্জন ঘুঘুর মায়া ডাক
ঘাসের উপর চিকন রোদ ব্যবহৃত ব্যস্ততা
সারাদিন নিত্য কাজে জ্বলজলে সূর্য
সেও জানে কখন চলে যেতে হবে
কুরচির মুগ্ধতা খেলা করে উঠোনে
কিছু মায়াভরা মুখ চেয়ে দেখে অসংখ্য জোনাকি তীব্র ডানায় ঢেকে রাখে অন্ধকার
গতিময় জীবনের সমাপ্তি!
কিছু খোয়া গেছে
হলুদ ঘাসফুলের মধ্যে বন্ধুত্ব হারিয়ে গেলে আশ্রয় নিই লাল সাদা বেগুনির কাছে
মনে হয় সূর্যর আলো গায়ে এসে পড়তেই
আমিও উজ্জ্বল সাজে দেখি নিজেকে
কখনো গোধূলি হই কখনো আলোছায়া রোদ
অথবা সময়ের বুক পকেটে যত্নে তুলে রাখা
এক মুঠো বৃষ্টি !
আমরা অনেকেই অনেককিছু হারিয়ে ফেলি
যেমন: যত্নে তুলে রাখা ঘাসফুলের রঙ
হৃদপিন্ডের কিছু অংশ আকাশের মতো একবুক বিশ্বাস অথবা চোখে চোখ রাখার মতো সাহস
আমরা হারানোর অভ্যাসে আটকে বার বার নক দেই বিশ্বাসের ঘরে
যেন মৃত আমি বারবার জেগে ওঠে আবারও মৃত্যুর ঘরে ঘুমিয়ে পড়ি —;
দ্বিখণ্ডিত জীবন
কতদিন কেটে যাবার পর আজ মনে হলো যা কিছু বলার ছিল আমিও বলিনি হয়তো তুমিও
ভেবেছিলাম কবির স্বপ্নগুলো সবটুকু
কেড়ে নেবো….
কেড়ে নেবো ওর সাজানো সব কথা
যে কথা পাখির ঠোঁটে ছাতিম ফুলের সৌন্দর্য বহুগুন বাড়িয়ে দেয়
ভেবেছিলাম অধোমুখে রহস্যের ধ্বনি সুখপাখি হয়ে উড়ে যাবে নদীর ওপারে
ওখানে কিছু মানুষ নতুন করে আবার বাঁচতে চেয়েছে
নতুন ঘর – উঠোন – চুলো হেঁটে যাওয়ার নতুন পথ…
আবারও জড়াজড়ি ভালোবাসায়
যেন লোকালয় থেকে একটু দূরে দিন যাপনের উৎসব
আমিও তোমাকে নিয়ে ওপারে যেতে চেয়েছিলাম আকাঙ্ক্ষার তীর ঘেঁষে…!
হারানোর ভয়
হাড়গোড় ভাঙা কবিতাগুলো যেভাবে তুলে রাখি সেভাবেই বসে থাকে
নড়াচড়া করে না শুধু অবাক চোখে কি যেন ভাবে কে জানে
মাঝামধ্যে জায়গা বদল করি বারান্দার চেয়ারে বসিয়ে দিই
ওখানে সূর্যের আলো দেখে গাছের ছায়ার সাথে কথা বলে
কখনো আবার দুটো কাকের অভিমান ভাঙতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে
মাঝে মাঝে অনুযোগ করে বলে,
আমাকে তুমি আরেকটু যত্ন করতে পার আরো কিছুটা সময়—
হাত বাড়ালে সেও বাড়িয়ে দেয় হাত
নিয়ে আসি খুব কাছে শরীরের এক পাশে
ওখান থেকেই আমাকে দেখে আমি তাকে
আঁধার ঘনিয়ে এলে সে ভয় পায় ভয় পায় দূর্গা পূজা এলে
ঢাকের শব্দে কেঁপে ওঠা দু’খানা বাহু জড়িয়ে ধরে
বিসর্জন কে বড্ড ভয় পায় সে
*************************
