শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়ঃ দুইটি কবিতা
নিত্য নৈমিত্তিক
যেতে তো দিতেই হতো তাকে
তবু কেন দরজায় দুই হাত
আগলিয়ে পথ বসেছিলে সারারাত
ছিল না কি আরো কিছু ভালবাসা
প্রশ্রয়, কাগজের ফুল?
আর কি কি দিলে ফেরানো যায় প্রত্যাখ্যান?
বাইরে কোনোখানে জলসায় নিভে আসা ঘুম
ফুটে ওঠে জলরঙে
ভোরের ট্রেন ধরে মানুষেরা
নামে পুরোনো শহরে।
জেগে ওঠে পাড়া
চোখ মুছে উঠে আগুনে চায়ের জল
আর আয়নায় নিত্য নৈমিত্তিক নাগরিক অভ্যাস
টিফিন কৌটো ব্যাগে নিয়ে
ট্রামে বাসে চেনা দিন
তারা তোমারি মতো আনত চোখে মাটি আঁকড়ে
সয়ে নেয় সব দুর্বিপাক
দিনশেষে অন্ধকার সরায়
বাঁদিকের দেওয়ালে সুইচে আঙুলের চাপ
ক্লান্ত স্নান-সারা শরীরে,
পাখার হাওয়ায় খেলা করে
পরণের ঢিলে জামার সূর্যমুখী
রাতের পর আবার পরদিন
সব অভ্যাস আছে কাছে কাছে
চায়ের কেটলি থেকে বাসের টিকিট আর
জানলার শার্সিতে রোদ
শুধু একটি অভ্যাস চলে গেছে
প্রত্যাখ্যান ফেলে রেখে
সে
তুমি কি ত্যাগ করেছ সমস্ত সংস্রব তার
তুমি কি ঠিকানা বদল করে চলে গেছ
সে যেন তোমায় খুঁজে না পায় কোনোদিন
তুমি কি এখনো মনে মনে তার কথার উত্তর শানাবে বলে
পড়ে ফেলেছ এক সমুদ্র যুক্তিশাস্ত্র
এক পৃথিবী থেকে অন্য পৃথিবীতে রেখে
সে তোমায় পরিব্রাজক বানাল
কুরুশকাঁটায় বুনে দিয়ে তোমার সংলাপ
সে এখনো লিখছে তোমার জীবন
কার ছায়া বাস করে নিকটে তোমার?
*****************************
