ওসমান গণির দু’টি কবিতা
ভাঁটি
নবীনগর শহরতলী থেকে – অদূরেই ভোলাচং
সাদা-কালো মাটি ঘিরে মৃৎচারু বেদনার
মানুষের দুঃখ দুপলকে বিষণ্ণ হতে জানে
অনেক সূর্যাস্তভরা ক্রোধ বানানো ভাঁটিতে মৃৎশিল্প
এসেছে তাদের তৈরি হরিণ গরুর শিং
প্রথাহীন, ডোমহীন পুতুলের কাছে
আগুন কেটে কেউ বুঝি হাত ধুতে গেছে।
আলোর ধুসর শুষে
বাঁশির সংগীতে হাঁটি মাটি মাটি পারাবত পাখি
এই তো সংবাদ!
কুম্ভকারে ঘুড়ন্ত চাকার এঁটেল মাটির ভাঁটি
স্থিরতা ও মন্থর মনতুলি অতলে ডুবে যাই
কী সারাক্ষণ নিখুঁত অভাব লড়াই দুর্বার!
নিহত
এ বসুন্ধরা বেড়াতে এসে
মৃত্যুই শুধু ধ্রুব দেখি।
ঈদগাহে শাদা একটা মিনারের পিছনে বসে
ইন্তেকাল হওয়া মানুষ দেখি —-
আতর ও আগর দিয়ে সেগুন খাঁটিয়া ভর্তি ঘ্রাণ
দাফন কালে তার শরীরের কাফন ওড়ে
কবরের উষ্ণ বাতাসে।
কিছু দূরে, পাহাড় টিলায় তার নিদ্রাঘর,
বাড়িতে দাঁড়িয়ে তার বউ বন্ধু স্বজন বেদনায় কাঁদে!
দাহকাল সমাপ্ত হলে
সেমুহূর্ত গোরস্থানের কথাই শুধু চতুর্দিকে ভাসে।
আর ভাবি, কেন তবে বেড়াতে এলাম?
এই পৃথীবিতে
যে-কোন প্রাণীর মৃত্যুই বড়ো দুঃখদায়ক।
মৃত্যুকে জানাই সেলাম।
*********************
