প্রহ্লাদ ভৌমিকঃ তিনটি কবিতা
নিভৃতে
আমি কারও ব্যক্তিগত কেউ নয়
তবু ভেতরে ভেতরে কোথাও গোপন টান থাকেই
থাকে মুক ও বধির দহন…
আমি অন্তত কোনও ভাবেই প্রতারক নই
কিছু ক্ষোভ ও লোভ তবুও আমাকে ঘিরে থাকেই
থাকে নিজস্ব কিছু পরাক্রম উচ্চারণ
আমি কিছুতেই কারও বাধ্য প্রেমিক নয়
তবুও প্রেম কিংবা ভালোবাসায় ছুঁৎমার্গ নেই
নেই দুর্বলতা অথবা সকরুণ দীর্ঘশ্বাস
আমি নিজের ভেতরে আছি অবিচল
জড়িয়ে আছি মূল্যবোধের বিদগ্ধ আকর
অবিচ্ছিন্ন করে আছি সংবেদনশীল যাপনে
এভাবেই আস্ত কোলাহলের মধ্যেও
আমার অনুদিত বোধের অনুরণনের
এ’টুকুই এতটুকুই নিভৃতে থেকে যায়
ফিরে তাকানো
বহুমুখি মায়ার বেড়াজালে দুঃখগুলো ছড়িয়ে রাখি
করতলে রাখি স্বপ্ন আঁকা একগুচ্ছ বর্ণময় ফুল
মুঠোফোনে চুপকথাগুলো ফাঁস হয়ে হয়ে
ভেসে উঠলে আলোর মতো হাসি
শুনতে থাকি তাকলাগানো সব কতাবার্তা
কারা যেন গ্লাসভর্তি রেখে গেছে মাত্রাহীন তৃষ্ণা
দহন মুহূর্তগুলো অতিক্রম করে ফিরে এসে
খামচে তুলি স্বস্তির মুহূর্তগুলো
তীক্ষ্ণ ভ্রু-ভঙ্গিমায় ছুঁড়ে দিই দু’চোখের মুদ্রা
অপর দিকে শিহরিত শরীরে ভাস্কর্য জাগিয়েও
মুখ ফিরিয়ে নিয়েছ তুমি…
আশ্চর্য এক নিঝুম নিঃস্তব্ধার ভেতরেও
দেখি,বিস্ময়ে নিবিষ্ট তোমার দু’চোখের ফিরে তাকানো
মিথ
প্রতিদিন আমাকে স্বপ্ন দেখে যেতে হবে বলে
হাতে অনন্তের ব্যাকুলতা নিয়ে আমি ঘুমাতে যাই
ঘুমে গড়িয়ে নামে উপচে পড়া স্বপ্ন – যামিনী
পরবর্তী ভোরেও কি হলুদাভ অদ্ভুত নরম রোদে
পাপড়ি মেলে ফুটে উঠবে সূর্যমুখি ফুল !
বসন্তের কৃষ্ণচূড়ায় ভালোলাগা অপূর্ব বিস্ময়
বিস্ময়ের ওই অপূর্বতার ভেতরে কোকিলের কুহুরব
আর বসন্ত গোধূলির উন্মুখ মুহূর্তগুলো আজও
শব্দের সাদা পাখি সন্ধানী চোখ মেলে প্রতিনিয়ত
এই পুরোনো কথাগুলো এখনও অনেকটাই তৎপর
পুরোনো কথাগুলোই নতুন করে বলতে সরল অনুভবে
আড়ালে কিছু ‘মিথ’ এর ভাঙচুর শুধুই…
***********************
