You are currently viewing পঞ্চকাব্য || খালেদ হামিদী

পঞ্চকাব্য || খালেদ হামিদী

পঞ্চকাব্য
খালেদ হামিদী

পৃথিবী আসলে

একটি পঙক্তি আসি আসি করে কোথায় থমকে যায়?
কচু পাতা থেকে শিশিরের ফোঁটা পতনোন্মুখ দেখে
নাকি লাফে হেঁটে এগুনো ব্যাঙের পিপাসা মেটে না হায়!
অথচ ঘুঘুর ঝাঁক এসে দেখে ঘাসে জলকণা চেখে!

আরও কত পাখি ধান খেয়ে গেলে কাকতাড়ুয়ার শুরু;
ধান থেকে শিশু হয় বলে আর কবিতা লেখে না কেউ।
কাব্যচরণ তবুও না দিলে ধরা, কাকে ডাকি গুরু?
বোমার আঘাতে কোথাও আকাশে নিহত শিশুর ঢেউ!

কে যেন বলেছে:
“পৃথিবী আসলে পশুপক্ষীর, মানুষেরা সব এলিয়েন!”
সন্তান বুকে
ত্রস্ত মা-বাবা কেঁপে চিৎকৃত: “এ আবার কী শোনালেন!!”

২০ এপ্রিল ২০২৫

গাজা

বিস্ফোরণেই গগনচুম্বী মৃত্যুর পরে দেহ;
গাজার আগে কি অন্য কোথাও দেখেছে এমন কেউ!
ডানাহীন পাখি ভূপাতিত তবে জাগিয়ে প্রয়াত স্নেহ?
জানার আগেই বারুদে-আগুনে বহে রক্তের ঢেউ।

পাখপাখালির লোহুর ঝরনা সহজে হয় না, জানি;
তাহলে কীসের, কাদের ক্ষরণ দূরের কানেও বাজে!
মানুষের তবে? অভিন্নরূপী কারা তবে প্রাণহানি-
উৎসবে মাতে, ছুরিকাবিহীন, বিব অ্যাপ্রনে সেজে!

আমারও টুকরা অস্তিত্বের, আরও খণ্ডিত হলে
কসাই এবং চুপ সহযোগী শীর্ষে দাঁড়িয়ে হাসে।
বুচার জ্যাকেটে মৃতের ফিনকি, ‘মুখে তো লাগেনি’ ব’লে
দেখে নিহতের দীর্ঘ পতাকা নদী ও সাগরে ভাসে।

০৭ এপ্রিল ২০২৫

বাঁকা

‘পুরুষ বেঁকে যায়।’- এমন অভিযোগ
হেনেও দেখোনি কি মজনু উন্মাদ
হয়েই এক লাফে নাগাল পেলে হাতে
আকাশ থেকে চাঁদ ভাসাতে চেয়েছিল
অপার সমুদ্রে? অন্ধ আপত্তি
খাটে কি সব কালে? জানার আগেভাগে
উচ্চকিত ফের: ‘ব্রহ্মপুত্রের
গতি না বদলালে বটেশ্বরে চুমু
তুমি কি ভুলে যেতে! নরের দায় থেকে
প্রশ্নহীনতার সুযোগে পার পাও!’
‘কী আর কহি সখী, ভূমির মালিকানা
দাবির কিছু লোক কবে যে বেঁকে গেছে
দেখিয়ে পিঠ শুধু! অধীন চাষি আমি
প্রজন্মান্তরে সুদূর নাগরিক!
উপরে উঠে ওরা দেখেছে যুগে যুগে
কেমন ক্রেতা বাড়ে তাদের হাটে-ঘাটে।’

নদের গতিপথ একদা বেঁকে গেলে
কীভাবে উয়ারিতে চুমুর দুইজন
হয়েছি স্যান্ডউইচ দেখতে যেই ছুট
চেয়েছি দিতে কবি কহেন একজন:
‘বলো না আর কিছু। সবার অলক্ষ্যে
চলতে আচানক, আমার পিঠে, দেখ,
কীভাবে গেঁথে গেল তৃতীয়া চাঁদখানা।’

০১ এপ্রিল ২০২৫

মিলের অমিল

“কোথাও এমন দেশ পাবে নাকো তুমি
কিশোরী ধর্ষণে পটু শ্বশুর ও স্বামী!
আমার বোনের তারা কাটে ছোট্ট অঙ্গ
দেবরও শিউরে তোলে হতভাগা বঙ্গ।”
এমন উক্তির কেউ দেখে, এক মেয়ে
প্রতিবাদে ফেটে কহেঃ “পোশাকের চেয়ে
শিশুতে আপত্তি, লক্ষ্য হত্যা, বলাৎকার।
এর চাইতে জ্য্যন্ত গোর দেওয়া চমৎকার!
জাহিলেরা অপমান করেনি অন্তত,
কন্যাজন্ম মাটি চেপে ভুলেছে সতত।”
এ-কথায় কারও চিত্ত আরও উঠলে কেঁপে
ওদিকে আকাশ থেকে মৃত্যু নামে ঝেঁপে।
গাজায় বাচ্চারা ছোটে মা-বাবার খোঁজে।
ভয়ার্ত তাদের শোনে কারা চোখ বুজে!
শুকায় চোখের পানি, রক্ত শুধু ঝরে;
আসিয়া কি এসে বলে বারবার মরে:
“উঠানে সারমেয় ছানা আদরের, তাই
দুশমনকে কুত্তার বাচ্চা ডাকতে পারি নাই।”

২২-২৪ মার্চ ২০২৫

মিলের অমিল: ০২

‘প্রেমের যদি খঞ্জনা
গঞ্জনা তুই পক্ষী তবে ঘৃণার।’
‘এই অপবাদ! তোকে এবার ছাড়বো না!!’
শুনে তবু অকম্পিত তাজমহলের মিনার।

‘স্বৈরিণী তোর অলক ছেঁড়া আমার হলো না!’
‘সন্ত্রাসী কি? নাগর আমার, অমন বলো না।’

‘কলুর বলদ আমার কেন আশার চিতা জ্বলে!
বোকার স্বর্গে আমায় রাখা তোর রীতি তাহলে?’

এ-কথায় তোর গড়াগড়ি নিঠুর অট্ট হেসে;
হাসির দোষে খুন তরুণের স্মৃতি রক্তে ভাসে।

২৫ এপ্রিল ২০২৫
*************************

Leave a Reply