তুষার ভট্টাচার্যের কবিতা
উত্তরঃ মনে হয় কবিদের দুটি শ্রেণী রয়েছে l একদল প্রাণের আনন্দে নিভৃতে কাব্যসাধনা করে l এদের কাছে নাম যশ প্রচার তুচ্ছ l এরা ভাল কবিতা লেখেন l
অন্য দলের কবিরা কবি সম্মেলন, সভা, সমিতিতে সারাবছর নিজের নাম প্রচারের জন্য হাজির থাকেন l এরা জানেন না কবিতা লেখা হচ্ছে নিভৃত সাধনা l
স্বপ্ন বীজ
যে কারণে শ্রাবণ অশ্রু মেঘ উড়ে আসে দখিন জানালায়
রাত পাখি নিঝুম অন্ধকারে শুধু
বিরহের গান শোনায় ;
যে কারণে অন্ধ খঞ্জনী বাদক বেলা শেষে
বৈষ্ণবী কোথায় গেলি বলে
চিৎকার করে
খোঁজে রাস্তায় রাস্তায় ;
যে কারণে ফুটপাতে পথ শিশু ভাতের অপেক্ষায় প্রহর গোনে
ক্ষুধার্ত তার চিল চিৎকার কান্না কে আর শোনে ?
যে কারণে পলিমাটির শিয়রে কেউ না কেউ নীরবে স্বপ্ন বীজ বোনে
পুবালি রৌদ্রের মুখ দেখে শিশুরা জেগে ওঠে ভোরের কোলাহলে গানে গানে ;
যে কারণে জনপদ ডুবে যায় ফুঁসে ওঠা
নদীর ভাঙ্গনে
তারপরও তুলসী মঞ্চে আশার প্রদীপ
টিম টিম জ্বলে
ব্যর্থতা নিরাশার ইতিকথা ভুলে জীবন খুঁজে নেয় মায়া মৃদঙ্গ বেঁচে থাকার মানে l
নিরুদ্দেশে
রাত্তির বুকে গোপনে মুছেছি দুঃখের
এত অশ্রু শিশির
তবু খোলেনি ভালবাসার বন্ধ
হৃদয় দুয়ার
দিন শেষে বুক ভরা গূঢ় অভিমান নিয়ে
চলে যাব সূর্যাস্তের গ্রামে
নিরুদ্দেশে আবার l
হৃদয় দুয়ার
তারপর অভিমানের হৃদয় দুয়ার নীরবে খুলে দেখি
শ্রীময়ীর ভেজা চোখের পাতায়
জেগে ওঠে ভালবাসার একটা রূপকথা নদী l
যতদিন স্বপ্ন বেঁচে থাকবে
যতদিন অগণন স্বপ্ন বেঁচে থাকবে পরাজিত ব্যর্থ
মানুষের চোখে
ততদিনই কলকল করে নদী শোনাবে
বেঁচে থাকার সুরেলা ভাটিয়ালি গান ;
যতদিন রামধনু স্বপ্ন উড়বে ওই আকাশে
ততদিনই শিশুরা টলোমলো পায়ে হেঁটে যাবে
ভোরের ঝিকমিক রুপোলি রোদ্দুরের দিকে ;
যতদিন ধ্রুবতারা স্বপ্ন বেঁচে থাকবে এই মৃত্তিকা
গাছপালা তৃণঘাসে
ততদিন পাখিরা করবে কিচির মিচির কলরব সুর l
ঈশ্বরের বাগানে
ঈশ্বরের অলৌকিক সাজানো বাগানে গিয়ে দেখি
কোনও ঈশ্বর নেই
সেখানে ভাঙা চাঁদের থালায় খিদের
স্বপ্নগুলি ছিঁড়ে খায় বুভুক্ষু শিশুর দল ;
‘ঈশ্বর ঈশ্বর ‘বলে আমি ক্ষ্যাপার মতন
সোনার মন্দিরে ছুটে যাই ;
সেখানে আমার ছিন্ন মলিন পোশাক দেখে
রাত প্রহরী শুধু চোখ রাঙায় ;
ঈশ্বরের সুলুক সন্ধান পাবো বলে
আমি ডুব দিই নদীর অতল জলে
আমার দু’হাতে উঠে আসে
শ্মশানের পোড়া চ্যালাকাঠ, শবের অস্থি কলস
দুঃখের অজস্র নুড়ি পাথর l
************************
