চন্দনকৃষ্ণ পালের দু’টি কবিতা
অপেক্ষা
কার হাত ধরে ফিরে আসে এই যে সকাল
তোমার চোখে ঘুমের আভা লেপটে থাকে
মেঘলা আকাশ আঁধারকে নেয় বুকে টেনে
অপেক্ষাতে থাকি আমি আলো ফোটার
কে যেনো আজ পিছিয়ে নেয় আলোর সময়
এলার্ম শুনে ঘুম ভেঙে ভেঙে যায় সাত সকালে
আলোর সাথে আঁধার মেশে জুবুথুবু
বুড়োর মতো ভোরের আকাশ তাকিয়ে থাকে
গাছের গায়েও কিছু আঁধার লেগে আছে
ত্রিচক্রযান মোড় ঘুরে এই বেরিয়ে এলো
হলুদ বাতির রাত জাগা চোখ তেমনি তাকায়
বন্ধ হবার বার্তাটা তার কাছে তো নেই
এক চোখে তাই তাকিয়ে থাকে নীচের পানে
দুত্রকটি পোকাও দেখি জেগেই আছে
পাখায় অদের ক্লান্তি খুব জমে থাকে
পা দানিতে পা রাখতেই কাত হয়ে যায় ত্রিচক্রযান,
থপথপে পায় এগিয়ে যায় গলির পথে
আমি শুধু তাকিয়ে থাকি এক নজরে
আলোর আশায়, দুচোখ ভরা ক্লান্তি নিয়ে।
নিদ্রামগ্ন সময়ের গান
নিদ্রামগ্ন সময়ও গান গেয়ে ওঠে আজকাল
তার ঠোঁটে জলবিন্দু দেখে দেখে ধ্যান মগ্ন হই
কতো যে মেঘের ছায়া বুকে নিয়ে রঙের পরশ
হেসে ওঠে আলো ছায়া মুখে থাকে ভোরের সানাই
তার সুরে জেগে ওঠে, তন্দ্রা থেকে ফিরে আসে আলো
সবুজের সাথে থাকে, চোখে থাকে আলোর মিতালী
কেউ কেউ গাঢ় ঘুমে, স্বপ্ন ঠিকই খোয়া যায় তার
ঘুম ভাঙে, হাহাকার লেপ্টে থাকে চোখের পাতায়
বৃত্ত থেকে বের হলে খোলা মাঠ হাতছানি দেয়
সেখানে শৈশব যার সারা মুখে হাসি লেগে থাকে
আমার বুকের থানে প্রদীপ জ্বালিয়ে দিয়ে কেউ
ঢেউ এসে চলে যায়, মুছে যায় আঁকা সব ছবি।
**********************
