আলম খোরশেদ: এবছর আমার একটিই নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। তবে সেটি একটি সম্পাদনাকর্ম এবং ইংরেজি ভাষায় রচিত। বইটি প্রকাশিত হয়েছে লন্ডন ও সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা ‘বালেস্টিয়ের প্রেস’ থেকে। এর নাম অ্যারাইজ আউট অভ দ্য লক, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত দেশের পঞ্চাশজন প্রতিনিধিত্বশীল নারীকবির কবিতার ইংরেজি অনুবাদ সংকলন। কবিতাসমূহ অনুবাদ করেছেন হায়দ্রাবাদনিবাসী ভারতের প্রখ্যাত কবি, অনুবাদক ও সাহিত্যের শিক্ষক নবীনা দাস। আমি এর সামগ্রিক সম্পাদনা তথা কবি ও কবিতা নির্বাচন; কবি, অনুবাদক ও প্রকাশকের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়; ভূমিকা, উৎসর্গপত্র ও কবিপরিচিতি ইত্যাদি রচনা; প্রচ্ছদ পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন; গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত অনূদিত কবিতাসমূহের পরিমার্জনা ইত্যাদি কাজগুলো করেছি।এছাড়া আমার আরেকটি অনুবাদগ্রন্থ ভার্জিনিয়া উলফের ‘আ রুম অভ ওয়ানস অউন‘ এর ভারতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে কলকাতার ‘রাবণ’ প্রকাশনী থেকে। বাংলাদেশের কবিতাকে ইংরেজি অনুবাদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের বৃহত্তর পাঠক সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছে দিতে পেরে স্বভাবতই আমি ভীষণ আনন্দিত ও আপ্লুত বোধ করছি।
মন-মানচিত্র: আপনার পূর্বে প্রকাশিত বইগুলোও কি অমর একুশে বইমেলার স্টলে পাওয়া যাচ্ছে? এছাড়া, রকমারিসহ আর কোন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে?
মন-মানচিত্র: অমর একুশে গ্রন্থমেলা লেখক-পাঠকদের মধ্যে শুধু সেতুবন্ধনের কাজটিই করে তাই নয়, এইসময় গ্রন্থপ্রেমিকদের মধ্যে খুশির আমেজও পরিলক্ষিত হয়। গ্রন্থমেলাটিকে প্রাণবন্ত করার ব্যাপারে আপনার অভিমত জানতে চাই।
আলম খোরশেদ: তা তো বটেই। এই লক্ষ্যে মেলাটিকে আরও পরিচ্ছন্ন, পরিপাটি ও আলোকিত করে তোলার পাশাপাশি ক্রেতা, দর্শনার্থীদের জন্য বসার ও বিশ্রাম নেবার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে। আর, লেখক-লেখক ও লেখক-পাঠকের মধ্যে দেখাসাক্ষাৎ, আড্ডা ও আলাপের একটা উষ্ণ ও আন্তরিক পরিসর তৈরি করতে হবে, এবং সেটা মেলা কর্তৃপক্ষের সচেতন উদ্যোগেই।
মন-মানচিত্র: গ্রন্থমেলা শুধু একটি মেলাই নয়, এই মেলার সাথে প্রকাশনার সাথে জড়িত মানুষের রুটিরুজির সংস্থানের ব্যাপারটিও জড়িত। এই ব্যাপারেও যদি আপনি আপনার মতামত শেয়ার করতেন।
আলম খোরশেদ: তা ঠিক, কিন্তু এটার একটা বিপদের দিকও রয়েছে। কেননা দেখা যায় যে, প্রকাশকেরা তাদের সারাবছরের রুটি-রুজি তথা মুনাফার জন্য এই একটা মেলার ওপরই ষোলোআনা নির্ভর করে থাকে। যে কারণে মেলাকে সামনে রেখে তারা যেনতেন প্রকারেণ, কোনোরূপ বাছবিচার না করে গাদাগাদা বই বার করেন, যেখানে কোনো সম্পাদনার বালাই নেই, বানান-ব্যাকরণের শুদ্ধতা নিয়ে নেই কোনো মাথাব্যথা, বইয়ের সামগ্রিক সৌষ্ঠব, তার যথাযথ বিক্রয়মূল্য ইত্যাদি নিয়ে নেই কোনো সুবিবেচনার বহিঃপ্রকাশ; আছে স্রেফ মুনাফার পাঁয়তারা। এটা একটা দেশের প্রকাশনাশিল্পের জন্য মোটেও স্বাস্থ্যকর ও স্বস্তিদায়ক নয়।
মন-মানচিত্র: বইমেলার পর প্রকাশিত বইয়ের আর বিশেষ খোঁজ থাকে না। আমাদের দেশে বইয়ের দোকানও যেহেতু স্বল্প, এই পরিস্থিতিতে বই পাঠকের কাছে পৌঁছাতে আপনার ভাবনা যদি জানাতেন।

আলম খোরশেদ: পাঠকদের কাছে একটাই প্রত্যাশা, যথাসম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সাধ্যমতো বই কেনার চেষ্টা করা।
