You are currently viewing ওয়েন্ডেল এরডম্যান ব্যারি’র কবিতা  অনুবাদঃ সোনালী চন্দ

ওয়েন্ডেল এরডম্যান ব্যারি’র কবিতা অনুবাদঃ সোনালী চন্দ

ওয়েন্ডেল এরডম্যান ব্যারি’র কবিতা
অনুবাদঃ সোনালী চন্দ

ওয়েন্ডেল এরডম্যান ব্যারি (জন্ম ৫ আগস্ট, ১৯৩৪) একজন আমেরিকান ঔপন্যাসিক, কবি, প্রাবন্ধিক, পরিবেশ কর্মী, সাংস্কৃতিক সমালোচক এবং কৃষক। গ্রামীণ কেন্টাকির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত, বেরি দ্য গিফট অফ গুড ল্যান্ড (১৯৮১) এবং দ্য আনসেটলিং অফ আমেরিকা (১৯৭৭) এর প্রাথমিক প্রবন্ধগুলিতে তার অনেক কৃষি সংক্রান্ত বিষয়বস্তু তৈরি করেছিলেন। গ্রামীণ সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি এবং অর্থনীতির প্রতি তার মনোযোগ ‘পোর্ট উইলিয়ামের উপন্যাস’ এবং গল্পগুলিতেও পাওয়া যায়। যেমন ‘আ প্লেস অন আর্থ (১৯৬৭), জেবার ক্রো (২০০০), এবং দ্যাট ডিস্ট্যান্ট ল্যান্ড (২০০৪) ।

তিনি ফেলোশিপ অফ সাউদার্ন রাইটার্সের একজন নির্বাচিত সদস্য, জাতীয় মানবিক পদক প্রাপক এবং ২০১২ সালের জন্য জেফারসন লেকচারার । তিনি আমেরিকান একাডেমি অফ আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সে-এর ২০১৩ সালের ফেলো এবং ২০১৪ সাল থেকে আমেরিকান একাডেমি অফ আর্টস অ্যান্ড লেটার্সের সদস্য । ব্যারি ২০১৩ সালের রিচার্ড সি. হলব্রুক ডিস্টিংগুইশড অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডের প্রাপক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল । ২৮ জানুয়ারী, ২০১৫ তে তিনি প্রথম জীবিত লেখক হিসেবে ‘কেনটাকি রাইটার্স হল অফ ফেম ‘ এ অন্তর্ভুক্ত হন।

বন্য সৌন্দর্যের শান্তি
—————————

পৃথিবীর হতাশা যখন আমার মধ্যে বাড়তে থাকে
আর রাত্রে আমি এই ভেবে সামান্য শব্দে জেগে উঠি ভয়ে যে আমার এবং আমার সন্তানাদির কি ভবিষ্যত হতে পারে, আমি সোজা গিয়ে সেখানে শুয়ে পড়ি যেখানে বুনো হাঁস তার শান্ত আর সুন্দরভাবে জলের উপর বিশ্রাম করে , যেখানে লম্বা গলার সারস তার খাবার খায় ।
আমি বন্য সৌন্দর্যের শান্তির খোঁজে চলে আসি যারা কখনও তাদের জীবনকে হতাশার ভবিষ্যতচিন্তা দিয়ে আবদ্ধ করে না।
আমি স্থির,শান্ত জলের সন্ধানে এখানে আসি আর অনুভব করি আমার মাথার উপর আকাশে দিনের বেলায় অন্ধ তারারা যেন তাদের আলো নিয়ে অপেক্ষা করে।
কিছুক্ষণের জন্য আমি পৃথিবীর লাবণ্যের মধ্যে বিশ্রাম করি, এবং তখন আমি মুক্ত ।

মিশরীয় ছায়া গাছ
—————————
যেখানে আমার নিজের জায়গা, যার মাটির আমি নিজে আকার দিয়েছি এবং আমার অবশ্যই বহন করা প্রয়োজন, সেখানে একটা বহু পুরনো গাছ বেড়ে উঠছিল, একটা বিরাট মিশরীয় ছায়া গাছ, যে নিজেই অদ্ভূত এক অসাধারণ আরোগ্যকারী।
সেই গাছের চারদিকে বেড়া বাঁধা হল, পেরেক গাঁথা হল তার শরীরে।
তার শরীর চাঁছা হল,কাটা হল, বজ্রপাতে সে গাছ পুড়ে গেল। এমন কোনও বছর নেই যখন তার উপর অত্যাচার হয়নি।
সে গাছে একটা গর্ত ছিল যা তার সাক্ষাৎ মৃত্যু , তদুপরি, অন্ধকারের ঠোঁটের উপর তার কানায় কানায় ভরপুর বেঁচে থাকা শুভ্রতা যেন বাইরে উছলে পড়ছিল।
তার সমস্ত ক্ষতচিহ্নের পরেও তার বাকলে নিরবচ্ছিন্ন শুভ্রতা দেখা যায়। সে তার সমস্ত গ্রন্থিতে তার ক্ষতচিহ্নের ভরাট হওয়ার ইতিহাস সে বহন করে চলেছে।
গাছটি অদ্ভুতভাবে নিখুঁত মোচড় আকৃতিতে তার বৃদ্ধি নিয়ে বেঁকে বেঁকে উঠেছে।
সে তার নিজের সাথে ঘটে যাওয়া সমস্ত দুর্ঘটনাকে একত্রিত করেছে।
সে নিজেই তার অন্ধকার ভাগ্যের উদ্দেশ্য এবং ঔজ্জ্বল্য উভয়ই হয়েছে।
সেই গাছটি এক সত্য, সুন্দর, রহস্যময় এবং অজেয়।
কোনও দেশে তার মত একটিও গাছ আর নেই।
আমি তার মধ্যে একটা নীতি, ঠিক তারই মত অন্তর্যামী, মহান কাউকে দেখি আমি যার শাসনাধীন।
আমি তাকে তার নিজের জায়গায় স্থির দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি, নিজের খাবার তাকে নিজেকেই যোগাড় করতে দেখি।
এবং তাকে ভক্ষিত হতেও দেখি।
গাছটি এখানকার স্থানীয় এবং নিজেই নির্মাতা।

শুধু তার হাতদুটো, চাদরের উপর শান্ত, সমাহিত
———————————————————

এ পৃথিবী থেকে মুক্ত হয়ে সে চলে যায়।
তার বিদায়বেলার দিনে সূর্য কত স্বচ্ছভাবে তার মুক্তির মাধুর্যে অস্তাচলে যায়।
তার মৃত্যু থেকে এ পৃথিবী পুনরুজ্জীবিত হয়, তার মৃত্যুতে সমস্ত কিছুতেই তার জীবনের পবিত্রতা রয়ে যায়।

উজ্জ্বল প্রভা তাকে জানে। নিঃশ্বাসের থেকেও হালকা হয়ে আমাদের স্মৃতি থেকে সে মুক্ত হয়ে যায়।
দৃষ্টির থেকেও উজ্জ্বল হয়ে আরও গাঢ় নিস্তব্ধতায় পাহাড়ের জীবনের গভীরে সে
প্রবেশ করে যেখানে সে শান্তিতে থাকে।
সে সমস্ত কিছুর মাঝে লুকিয়ে আছে
এবং কখনও হারিয়ে যেতে পারে না।

************************************

সোনালী চন্দ
লেখক,অনুবাদক, সাহিত্য সমালোচক এবং ভাষাতত্বের গবেষক। বর্তমানে হায়দরাবাদের ইংলিশ অ্যান্ড ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজেস বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণারত। তার তিনটে ইংরাজি ভাষার এবং একটি বাংলা কবিতার সংকলন প্রকাশিত।
*************************************

Leave a Reply