ফাউজুল কবিরের পাঁচটি কবিতা
ফাউজুল কবির-এর পাঁচটি কবিতা সৃষ্টি হাতের রুমাল দিয়ে অকস্মাৎ গোলাপ বানাতে জানি যাদুকর আমি গতকাল ভোরে রাস্না ফুলে ফুলে সাজিয়ে দিয়েছি মন্ত্রে শিরিষের দেহ এই যে হঠাৎ বৃষ্টি নামলো…
ফাউজুল কবির-এর পাঁচটি কবিতা সৃষ্টি হাতের রুমাল দিয়ে অকস্মাৎ গোলাপ বানাতে জানি যাদুকর আমি গতকাল ভোরে রাস্না ফুলে ফুলে সাজিয়ে দিয়েছি মন্ত্রে শিরিষের দেহ এই যে হঠাৎ বৃষ্টি নামলো…
শামস আল মমীনের কবিতা পাগলি-৩ ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৮। শিবচর (মাদারিপুর) হাতির বাগান মাঠে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী চার যুবকের সহায়তায় একটি শিশু জন্ম দেয়ার খবরটি টেলিভিশনে দেখে/শুনে... কাঁপতে কাঁপতে শেষ কুপিটিও নিভে গেছে শিবচর হাটে, থেমে গেছে পাখিদের হই চই আর গ্রাম্য হাটের রুগ্ন কোলাহল। অন্ধকারে ভেসে আসে সেই আদিম চিৎকার। কেউ কি জানে, কি কি ফুল ফুটেছে আজ পৃথিবীতে? খোলা আকাশের নিচে ফিসফাস কথা হয় ‘পাগলিটা মা হইছে, পাগলিটা মা হইছে` গ্রাম্য টাউটের চায়ের ধোঁওয়ায় সভ্যতার ইতিহাস ঝাপসা হয়ে আসে। খবরের কাগজে, ফেসবুকে, টুইটারে টেলিভিশনের পর্দাজুড়ে খবর আসে ‘পাগলিটা মা হইছে, কিন্তু বাবা হয় নাই কেউ’। পিতা-পুত্র খোকা, আয় দেখি, বস…
আবসার হাবীব-এর পাঁচটি কবিতা শিকড় ছড়িয়েছে অনেকদূর প্রাচীন বটবৃক্ষ শিকড় ছড়িয়েছে অনেকদূর, মাটির গভীর থেকে গভীরে ছুঁয়েছে মন ব্যাপকতা নিয়ে, পাশাপাশি ঋজু দাঁড়িয়ে আছে বিধ্বস্ত গ্রামের পর গ্রাম, ভগ্ন জনপদ মানুষ বলছিল তাদের দুঃখ, সেই রাতের কষ্ট আর হারানোর কথা। বলছিল, পিতৃহারা পুত্র, শিশুহারা মাতা, ভাই-বোন একই কথা ও কাহিনী। মিডিয়াগুলো তুলে আনছে মানবিক বিপর্যয়ের কাহিনী এবং অপরাজেয় মানুষের কথা। ছুটছে এবং ছুটছে - দেখা যায় আলো দেখা-যায়-না তবুও এগোয় সুন্দর তারুণ্য, মানুষ মানুষের সঙ্গী সময়ে এবং অসময়েও। পুনরাবৃত্তি ইতিহাস আর ঐতিহ্যের এবং ধ্বংসের, মানুষ হাঁটছে কিছু স্মৃতি আর কিছু অম্লান এপিটাফ নিয়ে। মানুষ বেঁচে থাকে বুকে নিয়ে উজ্জ্বল এবং অনুজ্জ্বল গল্প, উত্থানের গাঁথা লিখে লিখে। আছে গান মুক্তির, উঠে দাঁড়ানোর কিছু দীর্ঘ কাহিনী, বাঁচার কোরাস, সম্মিলনী দীর্ঘপথ চলা। প্রাচীন বটবৃক্ষ শিকড় ছড়িয়েছে অনেকদূর, মানুষ মানে না পরাজয়। ছুটি চাই ছুটি চাই প্রতিদিনের হিসেব-নিকেশ থেকে ছুটি চাই সবকিছুতে জিতে যাওয়ার প্রতিযোগিতা থেকে ছুটি চাই শহরের যানজট ধূলি ধোঁয়া দীর্ঘশ্বাস থেকে…
ইয়ার ইগনিয়াসের একগুচ্ছ কবিতা সুর, অসুর ও বেসুরো গান কখনো কখনো সুরেও অসুর ভর করে। বেসুরো করে দেয় বহুল গীত ললিত লিরিক। বিধি-বিরুদ্ধ স্থাপনার মতন ভেঙে দেয় সম্পর্কের সবুজ হাঁড়।…
সাদাত সায়েমের তিনটি কবিতা ভোরের খেয়াল একটা পায়রা আমার আয়ুরেখা বরাবর বাকবাকুম বাকবাকুম হাঁটে সে কী বলে! কার চিঠি আনে! নিরুপায় আমি হৃদয়রেখাকে খুঁজি বিহঙ্গের ভাষা বুঝার তরিকা শিখি বুকফোলা পুকুর জাদুঘরের পেছনে একটা বুকফোলা পুকুর ঘাট একেবারে ফাঁকা পাশে শুধু উত্তপ্ত দুপুর মুখোশ…
দলিলুর রহমান ভালোবাসি (আনাতা নি আইতা কোতে, জাপানি গান অবলম্বনে) আমাদের ঘরের দরজা বন্ধ করতে করতে অতীত স্মৃতি কে বিদায় দিলাম আমি এখন আবার হাসি আমার নতুন জীবন চলে আমার…
দু'টি কবিতা প্রবণ পালন চট্টোপাধ্যায় দর্পনে স্নানঘর থেকে বেরিয়ে , সাদা তোয়ালে দিয়ে সযত্নে হৃদয়টাকে আগলে নগ্ন পায়ে তুমি , দর্পনের মুখোমুখি। দর্পনে কে রয়েছে জেগে ? পরাজিত অন্য…
যদি পেয়েও যাই এই পৃথিবী (Yeh Duniya Agar Milbhi Jaye To) কবি সাহির লুধিয়ানভি বাঙলায়ন-এইচ বি রিতা এই প্রাসাদ, সিংহাসন, নবীনত্বের পৃথিবী মানুষের শত্রু, এই সমাজের পৃথিবী সম্পদে-ক্ষুধার্ত নিয়মনীতিতে আবদ্ধ যদি পেয়েও যাই এই পৃথিবী; তবে কি হবে? এখানে প্রতিটি দেহ আহত, প্রতিটি প্রাণ তৃষ্ণার্ত প্রতিটি মানুষের দৃষ্টিশক্তি বিভ্রান্ত, অন্তরে বিষাদ এ কি আসল পৃথিবী? নাকি নিভু নিভু বাতিঘর? যদি পেয়েও যাই এই পৃথিবী; তবে কি হবে?…
আবার আসিস " আবার আসিস" বলে দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছি আজ; মেঘে মেঘে আষাঢ়ের সাজ নতুন আবাস লেখে কদমের বনে । আমি বলি " ওখানেই আসিস আবার" ! ওই যে চাঁদের…
বেদান্ত চোখের সামনে সব কেমন বদলে যায় হুটহাট না বলেই সব কেমন বিস্মৃতির দখলে চলে যায় কৃষ্ণাকার মানুষ ধবধবে সাদা গ্রাম্য অবুঝ ললনার রুক্ষ্ম এলোচুল সরলতা ভেঙ্গে বিদ্বেষের পদার্পনে, চির…