You are currently viewing চেনা সুর  || খোকন কোড়ায়া

চেনা সুর || খোকন কোড়ায়া

খোকন কোড়ায়া
চেনা সুর

আজ পনের দিন হল ওরা আলাদা। যেহেতু আশিষ এখন একাই থাকে তাই বলতে হয় আশিষের বাসা থেকে পনের মিনিট হাঁটা দূরত্বে কাবেরী ওর এক বান্ধবীর সঙ্গে সাবরেন্ট নিয়েছে। প্রেম করেই বিয়ে করেছিলো ওরা। বাঁধভাঙ্গা ভালোবাসা দিয়ে শুরু হয়েছিলো ওদের দাম্পত্য। পাঁচ বছরের দ্বারপ্রান্তে এসে সবকিছু কেমন একঘেয়ে, ছন্দহীন, বিরক্তিকর হয়ে উঠেছিলো। আশিষ, কাবেরী দুজনই চাকুরিজীবী। অফিস থেকে ফিরেই শুরু হয়ে যেতো ঝগড়া। সে ঝগড়া কখনো রাতে মিটে যেতো, কখনো আবার পরের দিন পর্যন্ত গড়াতো। ওদের পরিকল্পনা ছিলো পাঁচ বছর পর ওরা সন্তান নেবে।
পনের দিন পর রাত একটায় কাবেরী ফোন করে বললো, বিকাশ থেকে আমাকে ইন্টারনেটের একটা প্যাকেজ দিতে পারবে? আশিষ বললো, পারবো কিন্তু তুমি এত রাত পর্যন্ত জেগে আছ কেন? কাবেরী বললো, ঘুম আসছে না, তুমিওতো ঘুমাওনি।
পরদিন দুপুরে ফোন করলো আশিষ, আমার চেক বইটা তোমাকে রাখতে দিয়েছিলাম, কোথায় রেখেছিলে, খুঁজে পাচ্ছি না।
– আলমারির দ্বিতীয় ড্রয়ারে।
– সব জায়গায় তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি, পাইনি। তুমি অফিস থেকে ফেরার পথে এসে খুঁজে দিয়ে যেও।
– আমার আসতেই হবে?
– সমস্যা কি?
কাবেরী এসে আলমারি খুলেই পেয়ে যায় চেক বইটা। আসলে ওটা একটা খামের ভেতর রেখেছিলো , আশিষ তাই খুঁজে পায়নি। আশিষ বলে, বস আমি কফি করে আনছি। কফিটা ভালোই করে আশিষ। তাছাড়া অফিস থেকে ফেরার পর চা-কফি একটা কিছু না খেলে মাথাটা ধরে থাকে। কফি খেতে খেতে কাবেরী বললো, এই কদিনে দেখি শুকিয়ে গেছ অনেক। খাওয়া দাওয়া করছো না ঠিকমত?
– করছিতো। তুমিওতো স্লিম হয়েছো।
– রাতে কি খাবে?
– ডিম-আলু ভর্তা আর ভাত।
– কাল কি খেয়েছিলে?
– মেনু একটাই।
– ফ্রিজে কিছু আছে?
– চিকেন আছে , কিন্তু কেন?
– বের কর, আমি রান্না করে দিয়ে যাই।
– তা কি করে হয়, কোন দরকার নেই।
– কেন, আমার রান্না কি খারাপ! ঠিক আছে আমি বের করে নিচ্ছি।
রান্না শেষ হতে রাত নটা বাজে। কাবেরী বলে, বাসার কি অবস্থা করে রেখেছো, খোদেজা আসে না?
– তুমি চলে যাওয়ার পরদিনই মানা করে দিয়েছি।
– ঠিক আছে, তুমি খেয়ে নিও আমি আসি।
– সে কি, খেয়ে যাও তুমিও।
– না, অনেক রাত হয়ে গেছে। বাসায় গিয়ে খাবো।
– বাসায় গিয়েতো রান্না করেই খেতে হবে। তার চেয়ে বরং খেয়েই যাও।
খেতে খেতে রাত দশটা। শুরু হল তুমুল বৃষ্টি। কাবেরী বললো, তোমার গাড়ী দিয়ে আমাকে একটু ড্রপ করে আসবে। বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি।
– গাড়ীতো ওয়ার্কসপে।
– গাড়ীটা পাল্টাওতো, ওটা তোমাকে অনেক যন্ত্রণা দিচ্ছে। তাহলে রিক্সা করেই যেতে হবে।
– রাতটা এখানেই থেকে যাও না!
– কি বলছো, তা কি করে হয়!
– কেন হয় না, আমাদেরতো আর ডিভোর্স হয়নি।
– তাছাড়া আমারতো চেঞ্জ করতে হবে।
– সবকিছুতো নিয়ে যাওনি, তোমার ড্রয়ারে দেখলাম কিছু আছে। ওখান থেকে একটা পরে নাও।
সকালে চা খেতে খেতে কাবেরী বলে, অফিসে যাওয়ার আগে আমাকে মাছ সবজী এনে দিয়ে যেতে পারবে?
আশিষ অবাক হয়ে বলে, তুমি অফিসে যাবে না?
– ভাবছি আজ যাবো না।
*********************************

Leave a Reply