You are currently viewing কাউসারী মালেক রোজী’র কবিতা

কাউসারী মালেক রোজী’র কবিতা

কাউসারী মালেক রোজী’র কবিতা

সমুদ্রের ভেতর

ঘরখানা সমুদ্র হয়ে গেছে
পোতাশ্রয়ে বড় অদ্ভুত নৌকা, জাহাজ, জলযান
মালামাল, যাত্রী আনে আবার ফেরত দিয়ে যায়।
সমুদ্রে বাঁধ, তৈরি জেটির চিত্রশালা
আখেরি আকাশ প্রসারিত পানির চাতালে
ফুটিয়ে তোলা দিন,রাতের পানশালা
ঘরখানার মানচিত্র বদলে গেছে।
মিশে আছে ক্ষোভ ঢেউ খেলা দরজায়
মনের ভরকেন্দ্র সমস্যার ঘূর্ণনের চাকায়,
ভাটিয়ালি গান, বাঁশীর মূর্ছনা
সাম্পান মাঝি গাইতে গাইতে ডুব শব্দরা।
সফেদ ফেনা জলতরঙ্গ তাফসিরে
স্বপ্ন তূলো বীজ উড়ে ভেসে যায়
বালিকার চুলের লাল ফিতায়,
মেঝেতে পা রাখতে পারি না
ঘরখানা ডুবেছে- সমুদ্রে।

কত স্বপ্ন আমার
—————-

শখ করেই নাম রেখেছিলাম মোহাম্মদ,
যখন পেটে এসেছিলি, সেসময় একদিন-
পিঠে তোর বড়ভাই লেপ্টে, গর্ভে নয় মাস,
হাতের পোঁটলায়, দুধের বোতলে আধা খাওয়া দুধ
ছুটছিলাম হোঁচট খেতে খেতে
যেমন যুদ্ধ গন্ধে মানুষ ছোটে।
ভরা পোয়াতী, ব্যাথার চিৎকার, পানি ভেঙ্গেছে
প্রথম ছেলে ওসমান দুই বছরের,
চোখে পিচুটি, নাকে সিনকি, জ্বরে পুড়ছে নেতিয়ে,
এক বুড়ো রিক্সাওয়ালা হাসপাতালে পৌঁছে দিলো
দয়ার শরীর, দোয়ায় রইল।
সারারাত কাতরানোর পর তুই এলি
দাই যখন মেঝেতে সাদা কাপড় জড়ানো
তোকে বাড়িয়ে দিলো,
ওসমানের শীতল নিথর ছোট্ট দেহটাও
সাদা কাপড় মোড়ানো ছিল,
না বলেই চলে গেল।
ডাক্তার সাহেব বলেছেন নিউমোনিয়া,
আমি তব্দা খেয়ে ভাবলাম
কাকে কোলে নেব আগে।
সিটি কর্পোরেশনের লোক এসে
ওসমানকে আমার হাত থেকে নিয়ে গেল,
তুই তখন তারস্বরে চেঁচিয়ে কাঁদছিস
হতভম্ব আমি জানিনা কেন কাদছিলি।
তোকে কোলে, দুর্বল আমি রাস্তায়
ঘর ছিল না, পথ ছিল না
কোনদিকে যাব,
পুর্ব পশ্চিম উত্তর দক্ষিনে অতল খাদ,
মৃত পিতা-মাতা
ভাই-বোনের দুয়ার খোলা নাই
স্বামীর ভালবাসা অন্য নারীতে বুদ,
আকাশে তাকিয়ে দেখি
পাখিরা উড়ে গেলেও
আমাকে চেনে না কেউ।
আঁচল পেতে খাবার দোকানের পাশে
ক্ষুধার ঝুলি আগলিয়ে একসময় ভুলে গেলাম
ওসমান নামের কেউ ছিল কখনো
রয়ে গেল আচর কাঁটা বুকের চাপ।
শব্দ হলো কি! বিড়ালের থাবা থেকে দুরে,
পিঁপড়া আরশোলার কিযে কাড়াকাড়ি
মশার কামড়, ইঁদুরের ছোটাছুটি
কাতর ঘুমে জাগার ভান করি।
রাত ভোর কাটে
ট্রেনস্টেশন, মুদির দোকান,বস্তি
ঘুরে ফিরে আসে,
ছুটা কাজের বুয়া নতুন পরিচয়ে।
বড় হলো মুহাম্মদ, স্কুলের পড়া শেষ
কেরানীর চাকরী পেলে
আমার সুন্দর সুখের উম- পদ্ম ফুল।
অনেক খুঁজে ছেলের জন্য বউ আনলাম
লাল বউ দুদিন বাদেই ক্লান্ত হয়ে গেল
ঘুম কম আমার, শরীরের গাঁটে গাঁটে ব্যাথা
নিত্য বাহানায় রোজ অসুস্থতা।
আবার চেনা রাস্তায়
মুহাম্মদ অসহায় চোখে দাঁড়িয়ে থাকলো,
হাতের পোঁটলায় শাড়ি ব্লাউজ, থালা
একটা পানির পাত্র।
আবার আকাশ দেখলাম
ভাবছি আমার কি কখনো স্বপ্ন ছিল!

 

মন পোড়ে
————

কথাখান থাক আজ
এখন না করি কোন কাজ,
উইন্ডশিল্ডে আছড়ে পড়ে দুঃক্ষ কাহন
সাইড মিররে হারিয়ে বেড়ায় ঝাপসা পিছন।
সাজানো এক জীবনযাপন বৃত্ত ছিল
বৃত্ত ভাঙ্গা সরলরেখায় বুক স্পন্দন,
জবাফুলে লাল পাগড়ি মাথার চুলে
কথা দেয়া নাই
যাবে না কেউ একেবারেই,
কখনো সখনো চলে যেতে হয় কাঁপা হাওয়ায়
শীতের কামড় হাড়মজ্জায় মেঘের আঁধার,
মন পোড়ে, ভালোবাসা ওড়ে
ফেরে না আর।
ছাড়ছি শহর যাচ্ছি শহর, সময় খেলায়
মন পোড়ে,মন পোড়ে তৃষায় হেলায়।
কাজ থাক আজ আলোর হেলান দেয়া
কথা থাক চোখ ক্লান্ত
ভাসুক, ভেসে ভাসে মন,একমুঠো ছোঁয়া
বুনো স্রোতের খেয়া,
পানকৌড়ির ডুব সাঁতার, উঠি ডুবি দুলি
তারপর থাক, আজ সন্ধ্যাছায়া, চলি।
******************************

Leave a Reply