চঞ্চল নাঈমের কবিতা
সময়ের ছায়া-কারখানা
ঘড়ির ভেতর এক গোপন কারখানা
সেখানে সময় গলে হয়ে যায় ছায়া—
আমরা সেই ছায়া মধ্যে হাঁটি
ভাবি—এটাই আমাদের শরীর
ভোরে সূর্য আলোর ইউনিফর্ম দেয়
রাতে অন্ধকার সমস্ত হিসাবে বসে—
কে কতটা নিজেকে ভুলে থাকে
আমরা দিকভ্রান্ত নৌকা
প্রতিটা আয়নায় নিজেকে দেখি—
তবু বিশ্বাস করি না
সবকিছু খাঁচায় ভরে রাখি
ভালোবাসা, ভয়, ইচ্ছে, বিষাদ-সমূহ
যেন খাঁচাটা ভেতরে
চাবিটা আমাদের হাতেই
সময় থামলেও কারখানা থামে না
কারণ তখনই জন্ম নেয়
সবচেয়ে বড় ছায়া—
যেটা কোনো আলোয় মাপা যায় না
নামের ভাঙন
আমি আমার নামটি খুলে দেখি
ভেতরে কোনো মানুষ নেই—
শুধু কিছু উচ্চারণের অসংখ্য অভ্যাস ছাড়া
কিছুই পাইনি
তুমি আমাকে যেভাবে ডাকো
আমি ততটাই হয়ে উঠি
এমনকি নিজের কাছে ফিরতে গেলে
আমাকে নীরবে সব ডাকা ভুলে যেতে হয়
যেন পরিচয় তাৎপর্যে নিজেকে পাওয়া নয়
বরং নিজেকেই হারানোর আরেকটি সরল কৌশল
ভুল সময়ের সাক্ষাৎ
আমরা ঠিক সময়ে দেখা করি না
সবসময় একটু আগে বা পরে—
সেই ফাঁকেই তৈরি হয়
আমাদের সমস্ত অমিল
তুমি যখন পৌঁছাও
আমি তখন নির্জনে চলে যেতে থাকি
আমাদের মিলন-সমূহ
শুধুই স্মৃতির মধ্যে জড়ো হতে থাকে
এমনকি আমরা কখনোই একসাথে নই
যেন একসাথে থাকার ধারণায় আছি
ছায়ার অনুবাদক
আমার ছায়া আমার চেয়ে ভালো অনুবাদ করে
সে জানে আলোকে কীভাবে ভাঙতে হয়, পড়তে হয়
আমি যা লুকাই
সে তা মাটিতে লিখে রাখে
যত সোজা হয়ে দাঁড়াই
সে তত বিকৃত হয়ে পড়ে
তবু তার বিকৃতিই
আমারই আসল আকৃতি
সত্য সবসময় একটু বাঁকা হয়ে নিভৃতে প্রকাশ পায়
*****************************
