You are currently viewing বদরুজ্জামান আলমগীরের কবিতা

বদরুজ্জামান আলমগীরের কবিতা

বদরুজ্জামান আলমগীরের কবিতা

উত্তরঃ আপনি কী চান- আপনার কবিতা একলা চলোরে নীতিতে চলুক, নাকি চান যে কবিতা জীবনের অলিগলি ও মানুষের ভিড়ভাট্টা ঘুরে আসুক?

বদরুজ্জামান আলমগীর : মানুষের জীবনে একলা চলোরে বলে কিছু নেই। যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলোরে- কথাটার মধ্যেও কিন্তু আসলে অন্তর্লীনভাবে সবার সঙ্গে জড়াজড়ি করে একান্নবর্তিতায় চলার আকুতিটুকুই জারি আছে। এ আমার আরাধনা- মানুষের ঝরাপালকের ক্ষরণটুকু আমার কবিতার পোঁচে ধরা পড়ুক, মানুষ ও নিসর্গের বাঁক থেকে যে রঙ উঠে যায়, জং ধরে- তার চিহ্নটুকু আমার কবিতায় মিশে থাকুক; ভিড়ভাট্টা, মনপ্রপাতে চমকে ওঠে কে যে অনিমেষ, আমার চোখে ঝরকা কাটা তাহার নিরুদ্দেশ।

ফসলি কীর্তন

উঁকি দিয়ে দেখার আদিঅন্ত নাই, উড়ে যায় লোহু
শেষ থাকে না অসীম আকাশের নীলিমারও,
তাই তারা যুদ্ধের আগে ও পরে, দয়া আর ক্ষোভে,
বাসনা সই ভাঙনে নকশিকাঁথার পাড়ে
গানের ছায়াপ্রচ্ছায়ায়, সুর আর ঘোরে হৃদয় চিরে
নিমপাতা আমপাতায় কথা সমিতির মিম্বর গড়ে তোলে,
জমায়েত হয় মেঘ মহিষের থরে বিথরে
দীর্ঘশ্বাসের মীড়, বঞ্চনার পোঁচে হৃদক্ষরণের হাহাকার
কদাচিৎ পুরাণ রূপকথা উপকাহিনীর বিন্যাসে
ছলাৎছলাৎ নদী আর হাওয়ার সংরাগ,
আমাদের মথিত করে, আমরা মনের অজান্তেই এমন এক নির্বাসিত ফসলি কীর্তন জনপদ হয়ে উঠি-
যাদের মৃত্যুর ঘুঙুর ছাড়া নিরাগ ওঠে না পাড়ে,
দুঃখীরা- অসীম তারা ঝরা, দুধসর নির্বাণীরা
এক আসরে সুরে সূত্রে পুঁথিপাঠের মোহরদানায়
অতীত বর্তমান ও আগামদিনের এক কফিন রাঙায়!

ছোট কাজ

মানুষ কত বড় বড় কাজ করে ফেলে
হাতের ইশারায় এক তুড়িতে চোখ ধাঁধিয়ে দেয়।
খেতে খুব মিষ্টি একটা ফল জিভে জল আনে-
চৌকস ল্যাবে দিব্যি কয়েকজন টেকনেশিয়ান
মুহূর্তে সেই ফলের মিষ্টতা তুলে ফ্ল্যাট করে ফেলে।
মঙ্গলগ্রহে, চাঁদের বালুর উপর অবলীলায়
পতাকা পুঁতে দিয়ে শাঁই শাঁই ক্যাম্পেইনে ফেরে,
গ্রোসারি স্টোর থেকে কাঁচামরিচ টমেটো কেনে,তারাই।
মাঠে, দরজার বাইরে বাতাসের ঘাটতি হলে
চারদিকের বাতাস হামলে এসে পড়ে,ঝড় ওঠে সমুখে।
যে মানুষ এতো কিছু করে সে কেন এক চিলতে
সহজ বাতাসের অভাবে এভাবে কাতরায়, মরে?
কত সমুদ্দুর গিরিখাত ভরাট করে ফেলে মানুষ, বিজ্ঞান
নিজের সামান্য ডেডবডি কবরে নামাতে অন্যকে লাগে!
নিরুদ্দেশে ভাবি, জন্মের আগে মরণ হলে এমন হতো না!

এককাপ কফি

অশীতিপর জামরুলের প্রতিবেশী হয়েছি আমি
দাঁড়িয়ে থাকছি এবড়োখেবড়ো ভাঙা দেয়ালের পাশে
ইটের গরাদ পেরুলেই বিবাগী রেইনট্রির গাছ
তার বাঁপাশ ঘেঁষে বয়ে যায় সোয়াইজানি নদী
লাফ দিয়ে আকাশের দিকে ওঠে কালিবাউশ মাছ।

এই একটা ব্যাপার হতে দেখি আজকাল হরহামেশাই-
বর্তমান বলে কিছু নেই আর, তাছাড়া বাইরের আবেশে
যা কিছু আছে তার সবই দূর দিগন্তের দিকে ভৈরবী
মৃদু ইশকুলের মাঠে থৈথৈ মৌমাছি ভোঁভোঁ কানামাছি।

আছে সম্মুখবাদী বনের ওপাশে ঢালুর জিয়নকাঠি
বলে চলে যাও ইশকুল পেরিয়ে গৃহী সন্ন্যাসের দিকে।
তাহলে এবেলায় বরং এককাপ উষ্ণতায় চুমুক দিই
জন্মের প্রথম কান্নার সমান সতেজ হয়ে উঠি-
কিন্তু আমার নিয়তি বারবার আমাকে বোকা বানায়
হাত থেকে ছলকে পড়ে ধোঁয়াওঠা চৈত্রদিনের কফি।
*****************************************

Leave a Reply