অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী’র কবিতা
প্রশ্নের উত্তরঃ
আমি কিন্তু আপনার কৌতুহলী প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নির্দেশিত বিকল্প দুটো পথের মধ্যে কোনও একটাকে বেছে নিতে পারছি না। আমার স্বভাব ভিড়ের ভিতর দিয়েই একলা হেঁটে চলা। আমার কবিতাও তাই। আসলে ভিড় তো একটা অবস্থা মাত্র, চলাটা কোথাও মূলত একারই।
সবশেষে আমার একার পক্ষ থেকে আন্তরিক প্রীতি জানিয়ে রাখলাম। ভালো থাকুন।
প্রীতি বিষয়ক
যখনই এলোমেলো হয়েছে আবহ
তুমুল মতান্তর গিয়ে থেমেছে উষ্ণ প্রস্রবনের কাছে
আমি অস্থিরবিন্দু থেকে শীতল কোনও
অরণ্যের ছায়াসঙ্গ খুঁজতে খুঁজতে
একটা অভ্র রঙের আকাশের সামনে পৌঁছেছি
প্রীতির রঙ সম্পর্কে সে আমার প্রথম ধারণা
পরবর্তী মতান্তরে ধূসর হয়েছি হয়তো
সন্ধান করেছি ঈশান পাড়ার মেঘ
বাকিটা ঝড়ের হাতে ছেড়ে দিয়ে দেখেছি
অভ্র রঙের আকাশের প্রতি বিন্দুমাত্র
সমীহের অভ্যাস নেই কারও
প্রীতি সম্পর্কে সেই আমার দ্বিতীয় ধারণা
জলখেলা
হয়তো অন্য ধারায় স্নান হতে পারতো
ঘোলা জল বয়ে যেতে পারতো অন্য দিশায়
কিন্তু এই স্বচ্ছতার মায়া দেখিয়ে
অবশেষে নরকডুবের খেলা দরকার ছিল না।
আমি জলের জন্মকথা কিছুটা জানি
চিরদিন শুধু স্ফটিক স্বচ্ছ হওয়া তার সাধ
তার ধারাপাত বেজে ওঠে শ্রাবণে
কিন্তু তাকে এই সব পঙ্কিল খেলার ভিতর
আমার মতোই ডেকে আনার দরকার ছিল না।
তোমরাও তো সহজ মায়াবী ছিলে
জলের শরীর দেখে মুগ্ধ হয়েছ কতদিন
ডুব দিয়ে রোজ নিহিত স্বর্গ ছুঁয়েছো
কিন্তু এই ভ্রষ্ট বিকারের দিকে ক্রমশ
এগোতে এগোতে পাতাল ছোঁয়ার দরকার ছিল না।
সকাল
রোজ দেখি রোদ্দুর এসে তালা খোলে
তারপর গত রাতের অন্ধকার মুদ্রণী থেকে
সকাল পত্রিকাটি প্রকাশ পায়
মুগ্ধ পাখিরা ছড়া পড়ে
বিদগ্ধ পাখিরা সুর সংযোগে গান গায়
ফুলেরা শোনে, খুশি হয়
মধুপেরা চঞ্চল পাঠের অভ্যাস করে
গাছেরা পাতা উল্টায় বারবার
মেঘেরা সেই পত্রিকায় চোখ বুলাতে বুলাতে
হাওয়াযানে চড়ে কাজে চলে যায়
আর আমি দেখি, আড়াল থেকে হাসছে
পত্রিকার শ্রমিক সম্পাদক।
*******************************
