You are currently viewing আহমদ সায়েমের কবিতা

আহমদ সায়েমের কবিতা

আহমদ সায়েমের কবিতা

প্রশ্নের উত্তরঃ
আমি কখনোই কোনো নীতিকথা মেনে কবিতা লিখিনি; মনে হয় না, কেউ লেখেন। কবিতা বানানো যায়—এমনকি বানিয়েও ভালো কবিতা হয়। আবার কিছু কবিতা আছে, যা নিজেই কবির হাত দিয়ে প্রকাশ পেয়ে যায়।
কবিতা হয়নি—এমন কোনো বাক্য বলা কঠিন; তবে যা পড়ে মনে ভালো লাগা জাগে, সেটাকেই আমি কবিতা মনে করি। এর বাইরে যা থাকে, তা হতে পারে সংবাদ বা কথাসাহিত্য। যে কবিতা পড়ে মনে কাঁটা দেয়, মনে থেকে যায়—সে কবিতা ‘একলা’ চলবে কীভাবে! তবে সেই এক কবিতা লেখার জন্য কত কবিতা লিখে ফেলেছি। আরো কত কবিতা লেখতে হবে ‘এক’ কবিতা লেখার জন্য, জানি না।
অলিগলি ঘুরে আসার মতো কবিতা—এখনও আমার হয়ে ওঠেনি।

 

শৈশবের মাঠে আটকে গেছে খাতা

সূর্য মাথায় নিয়ে ধরেছি ফড়িং, শৈশবের মাঠে
ভাই-বোন মিলে বিক্রি করেছি আনন্দ।
আজ ছেলের বিন্দু-বিন্দু আনন্দ দেখে
দুর্বল হাতের ক্লান্তিগুলো দেখি।
বয়স বেড়ে গদ্যগ্রন্থ হয়ে গেছে; কিন্তু ফড়িং
ভাবার বয়সে আটকে গেছে কবিতার খাতা।

সমুদ্র

সমুদ্র দেখতে গিয়ে দেখে এলাম
পৃথিবীর পোষা রাখা গর্জন;—

তার হুঙ্কারে কেঁপে ওঠে শিশুর নিদ্রা।
নোনা জলে পা ডুবিয়ে জেনেছি,
অন্ধ পৃষ্ঠার মর্মকথা—
সবই, সে আগেই জেনে গেছে।

উৎসবের আলো

পরিমিতি সবখানেই প্রযোজ্য—

গাছটা পানি পেলে যেমন সতেজ হয়
ফুল ও ফলের উৎসব আনে; কিন্তু
অধিক পানি নামিয়ে আনে ঝরা পাতার শোক

সামান্য হাওয়াতেই ভেঙে পড়ে তার দেহ।
শিশুরাও তাই—
আদর আর শাসনের ভারসাম্য না থাকলে
তাদের কণ্ঠে জমে ওঠে না হাসির গান
পৃথিবীর বুকেও জ্বলাতে পারবে না
কোনো উৎসবের আলো।
******************************

Leave a Reply