You are currently viewing পিয়াল রায়ের কবিতা

পিয়াল রায়ের কবিতা

পিয়াল রায়ের কবিতা

প্রশ্নের উত্তরঃ আমার কবিতা সর্বদাই নির্জনতার কথা বলে। শিশুকাল থেকেই আমার স্বভাবে আমূল গেঁথে আছে নির্জনতা। যে পরিবেশে আমার বাস সেখানে হৈচৈ খুব বেশি নেই। তাই নিজের সঙ্গেই আমার যত কথোপকথন। আমার কবিতা সেই বার্তালাপেরই ছোট ছোট টুকরো বলা যায়। স্বভাবনির্জন আমি, স্বভাবনির্জন আমার কবিতা।

এপ্রিলের কবিতা

১)

আরো দুটো একটা কথা জুড়ে জুড়ে সন্ধে হত বিকেল
আরো দু একটা রাস্তা রূপসী শহরের
চলে যেতে পারত হরিয়ালী জোয়ারের দিকে
যদি আরো দু একটা বার…

নিভৃত মানুষ বলেই কি এখনো এ বুকে ক্ল্যারিওনেট বাজে?
দু’হাতে সারি সারি ছায়ার মতো দমকা বাতাস
অরিজিৎ সিং আর তার যারপরনাই কান্নার গান
এখনো খুলে রাখে সর্বনাশী ছোট ছোট দরজাগুলো
আমি তো ততটাও তেতো নই যতটা ভেবেছিলে

কীভাবে যেন চলে গেলে গানটান গুটিয়ে
মেঘে মেঘে স্থির বিদ্যুতের মতো এখন
দুঃখরা আসে, আসে অস্তমিত চাঁদ,
কথাশূন্য রাতের হাহাকার

ব্যথা নিয়ে বুকে সারারাত এপাশ-ওপাশ
অবুঝ মেয়ের মতো ঝড় ওঠে

২)

কোনো রকম কারণ ছাড়াই বসন্ত ক্ষীণ হল
এ আমি মানি না
এত কেন ভারাতুর হলে?

কী এক ধোঁয়ায় যত তাপ দুঃখের
ঘন হল, এসে বসল ঠিক মাথার কাছেই
বুঝি মেঘ হল, বুঝি হল অস্ফুট আঁধার
কি নাম দেব আমি তার?
কোন ডাকে সাড়া দিয়ে সে পুর্নজন্ম নেবে?

স্তব্ধ হয়ে আছি কত কাল হল
মাঝরাতের অন্ধকারে মিশে গেছে খেজুরের বন
যেন কেউ নেই
যেন তুমি বসে আছ নাম না-জানা
আর আমি এক মস্ত তামাসা
সমস্ত অছিলায় ফতুর হয়ে আছি

তবে কি প্রিয়তম হবে না?
আজ এই হলুদ গোধূলির দেশে ডাক আসবে না
এপ্রিলের?

৩)
দূর থেকে কোন মায়া এল ভেসে
এপ্রিলের দুলে উঠল শাখা
প্রশাখায় তার স্বপ্নের মতো মাথা তুলল প্রেম

সাজানো দুপুর এলোমেলো করে
কে তুমি যুবক, রাজার মতো এলে?
নদীর সুরে বাজালে চাপা হাওয়ায় শিস?

আজ পাড়াসুদ্ধ লোক গেছে চন্দ্রিল বনে
গান হবে, খাওয়াদাওয়া
রাতের আগুন জঙ্গলে টেনে নিয়ে যাবে প্রিয় নারীকে
নারীও নেবে না কি মহুয়ার পাত্রে ভরে নিজের পুরুষ?

কে তুমি যুবক, রাজার মতো
এলেই যদি মায়াবকুল হাতে
এপ্রিলের নাম নিয়ে তিনবার স্বপ্ন ঢালো গ্লাসে
মদিরা হয়ে ওঠ

আমাকে তো চেন তুমি, বুনো রঙে আঁকা এক পাখি,
নেশায় আকুল তোমাকেই পান করব মন দিয়ে
****************************

Leave a Reply