সোমনাথ মাজী’র কবিতা
প্রশ্নের উত্তরঃ
আমি চাই না আমার কবিতা একলা চলুক। কারণ একলা চলা মানে শুধু নিজের ভেতরেই আটকে থাকা। কবিতা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা মানুষের মধ্যে প্রবাহিত হয়—ভিড়ের শব্দ, অলিগলির ধুলো, অচেনা চোখের ব্যাখ্যা—সবকিছু ছুঁয়ে।
আমি বিশ্বাস করি, কবিতা কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি একধরনের চলমান সংলাপ। আমি শুধু তার প্রথম উচ্চারণ করি, বাকিটা মানুষ সম্পূর্ণ করে। তাই আমার কবিতা একা নয়—সে মানুষের ভেতর দিয়ে হাঁটতে চায়, বদলাতে চায়, নতুন অর্থে জন্ম নিতে চায়।
একলা নয়, বহমান
আমি লিখি না একা হাঁটার গল্প,
শব্দ নিজেই খুঁজে নেয় পথ।
গলির ভেতর, মানুষের ভিড়ে
তার স্পন্দন বদলে যায়।
একটি কবিতা কখনো ব্যক্তিগত নয়,
এ এক চলমান বহুস্বর।
যেখানে প্রতিটি পাঠক
নিজস্ব অর্থ বসিয়ে দেয়।
আমি শুধু শুরু করি,
শেষটা লেখে সময়।
কারণ কবিতা থামে না,
সে ছড়িয়ে পড়ে অনুবাদে।
একলা চলা নয়—
আমি চাই তার যাত্রা,
মানুষের হৃদয় পেরিয়ে
আরেক মানুষের কাছে।
নীরবতার ভিড়
আমি ভিড়ের মাঝেও শুনি নীরবতা,
যেখানে শব্দগুলো হারিয়ে যায়।
মানুষ কথা বলে,
কিন্তু অনুভব চুপ করে থাকে।
কবিতা সেখানে জন্মায়,
যেখানে বলা অসম্ভব।
একটি লাইন—
হাজার অপ্রকাশিত ব্যথা।
আমি লিখি না ব্যাখ্যা,
শুধু রেখে দিই সংকেত।
যাতে কেউ এসে
নিজের মতো পড়ে নিতে পারে।
এই ভিড়ই আমার একাকিত্ব,
এই নীরবতাই আমার ভাষা,
কবিতা তাই
একসাথে একা এবং অসংখ্য।
অদৃশ্য সংলাপ
আমি যখন লিখি,
আমি আসলে কথা বলি না—
শুধু রেখে যাই কিছু চিহ্ন,
যা অন্য কেউ পড়বে।
এই পড়া কোনো পাঠ নয়,
এ এক সংলাপের শুরু।
যেখানে আমি নেই,
তবু আমার উপস্থিতি থাকে।
কবিতা কোনো গন্তব্য নয়,
এ এক চলমান বিনিময়।
যেখানে অর্থ বদলায়
প্রতিটি চোখের ভেতর।
তাই আমি চাই—
আমার লেখা ছড়িয়ে পড়ুক,
একটি হৃদয় থেকে
অসংখ্য অচেনা হৃদয়ে।
************************
