You are currently viewing ইউসুফ মুহম্মদের কবিতা

ইউসুফ মুহম্মদের কবিতা

ইউসুফ মুহম্মদের কবিতা

উত্তরঃ কবিতা মূলত লেখা হয় নিজের মনের আনন্দ ও প্রশান্তির জন্য। পরবর্তীতে আসেন পাঠক। একজন কবি অবশ্যই চাইবেন তাঁর কবিতা পাঠকের চৌহদ্দিতে ছড়িয়ে পড়ুক। আমিও তা চাই। তাই কবিতা প্রকাশের পর বলে থাকি এটা আপনাদের (পাঠকের) কবিতা। করণ প্রকাশের পর কবিতা হয়ে যায় পাঠকের। সেখানে লেখকের ইতি ঘটে।

স্বপ্নের ভেতর

কাছে নেই তাতে কি হয়েছে…
ঝুলে আছে তার অস্থির যৌবন|
প্লাস্টিকের গোলাপের ঘ্রাণে ভ্রমরের কাম-মধুবন

ঋষি এক আমাকে চোখের ভাষা পাঠ করার কৌশল
শিখিয়ে তিথি না বুঝে লুকুচুরি খেলে|
স্বপ্নের ভেতর মার্বেল হারিয়ে আমি নিঃশ্ব
সূর্যাস্তকে ভোর ভেবেই কে যেন যতিচিহ্নহীন…
নিভিয়ে রেখেছে আলো|
+++++++++++++++++

সুরের মাজেজা

সুরের মাজেজা আমাকে করেছে ঘুঙুর-পায়ের ভৃত্য
মদ্য মাতাল পানের পাত্র শুদ্ধ করেছে চিত্ত|

সুরায় ক্লান্ত রাতের আকাশ আমাকে দেখেছে একেলা
ভ্রমর নৃত্যে ফুলের পাড়ায় বসেছে লাস্য মেলা|

মধুচুম্বন-আপীত তরুণী পথের নিশানা ভুলে
নোঙর ফেলেছে মদের মহলে, সুরা চাখে আঙ্গুলে|

সুরের মাজেজা আমাকে করেছে ঘুঙুর-পায়ের ভৃত্য
তিথিকৃত্যে, মদ্য মাতাল পানের পাত্র শুদ্ধ করেছে চিত্ত|
++++++++++

তাহাকে গ্রহণ করো

বন্দরে নোঙর করে
মদের মঞ্জিলে সে নিজেকে পরিপূর্ণ অর্পণ করেছে

অতএব তাহাকে গ্রহণ করো…

ঠুমরি বাজে বংশি বাজে
বাজছে ছুতার মিস্ত্রি
হঠাৎ জাগে, কামের রাগে
লগ্ন পরের স্ত্রী|

অমাবশ্যা রাতে ঠোঁটে লিপজেল লাগিয়ে
যারা ইয়ার্কিতে মত্ত
তারা ছুঁতে পারে না প্রদীপ,
নয়নে মাখতে পারে না দীপাবলীর আলো
তাদের পায়ের তলে অন্ধকারের দুর্গন্ধ|

ও-সব এড়িয়ে সে রোদন দহনে পুড়েই
জ্যোস্না সাজায় কার যেনো চরণামৃত মাখানো পদ্মে

অতএব তাহাকে গ্রহণ করো|

কৃষ্ণ নাচে রামও নাচে…
দীপাধারে মন দে
নাচতে নাচতে নূপুর ছিঁড়ে
হ্লাদে নামে সন্ধে|

অতএব তাহাকে গ্রহণ করো

তারা উজ্জ্বল হলেই অমাবশ্যা ঘনায়
সন্ধ্যে তারায় রোদ নিভে যায়
পরদিন ভোর হবে বলে…

অতএব তাহাকে গ্রহণ করো|
+++++++++++++++

রক্তের অস্বাদন

ছোট বেলায় কাঁটা লতায় আঙুল কেটে গেলে
মা আসাম পাতার রস এস্তেমাল করতো আর
বলতো চুষে চুষে আলগা রক্ত ফেলে দেয়,
ঝরা বন্ধ হয়ে যাবে| সেই প্রথম জেনেছি
রক্তের স্বাদ নোনতা|

একই বয়সে নাইতে নেমে বুঝেছি সমুদ্র-জলও নোনা|
সমুদ্র কি পাতালের জল চুষে এমন হয়েছে!

বিশ্ব মোড়লের হাতে রক্ত লেগে আছে দেখে…
ফেলে আসা ছোট বেলা ছুটে এসে
পৃথিবীর অসহায় মানচিত্রে দাঁড়িয়ে জানতে চাইলো,
মহামান্য প্রতিসারী, প্রতিবন্ধী প্রেসিডেন্ট
অবশেষে স্কুল-হাসপাতাল গুড়িয়ে
চোখে-মুখে-ঠোঁটে লাল লাল আলপনা এঁকে
রক্তের যে আস্বাদন নিয়েছো তা তিতা নাকি নোনতা?
+++++++++++++++++++++++++++++++++++++++

প্রেমের বরই

কাঁচের নূপুর, তুই পাখি রায়! সুপর্ণা বা তিথি?
ভাবতে থাকি চালচলনে তোর কি পরিমিতি
তোর ঝঙ্কার দূরের তারায় ভাইঙ্গা ভাইঙ্গা যায়,
কেউ জানে না, শোনার জন্য কান পেতেছি হাওয়ায়|
মনের ভেতর পাতার বাঁশি বাজাও যদি জান
হঠাৎ করে থমকে দাঁড়ায় শাহ-করিমের গান|
মনতো তোমার উড়ু উড়ু, এক বিন্দু শিশির
এই আছে তো এই থাকে না—উল্কা পতন নিশির
তোমার পিরিত শ্যাওলা জমা খেজুর গাছের সিঁড়ি
সেই ঘাটে বয় প্রেমের বাতাস, ঝামরানো তোর গিরি|
এমন ঘাটে হয় না আমার মনের কথা পাঠ
আমার দহন পুড়তে পারে তেমন কয়লা কাঠ
পাইনা খুঁজে, দুঃখ-তিতা নিজের হয়ে থাকে
তুষের আগুণ কেমন পোড়ায়, সে কথা কই কাকে!
তিথিকৃত্যে তোকে দেখি পর্দা খুলে ফেবুর
পাখিরায় তো কাঁধ বদলায়, কাঁচের নূপুর চুর|
চোখের জ্বালায় মাখছি যে তাই অ্যাকোয়া ফেস জল
মেঘে ঢাকা চন্দ্র-কলা ঝর্ণাতে কল কল
তোমার গলির বরই গাছের মোটেই ছলনা নাই
গাছে উঠি, মরতে নয়তো—প্রেমের বরই খাই|
***********************************

Leave a Reply