You are currently viewing কল্যাণী রমা’র কবিতা

কল্যাণী রমা’র কবিতা

কল্যাণী রমা’র কবিতা

প্রশ্নের উত্তরঃ আমি চাই আমার লেখা অলিগলি ঘুরে আসুক।

গাছের ডেডবডি
———
একটা ক্র্যাব আপেল গাছ ছিল। বসন্তে গোলাপি-সাদা ফুলে গাছটা ভরে যেত। ডালে ডালে রেড কার্ডিনাল পাখি বসত। বসত ছোট পাখি চিকাডি, নরম ঘুঘু।
অথচ একদিন মানুষ ভাবল, গাছটা কেটে ফেলা উচিত। তার বাড়ির বড় বেশি কাছাকাছি গাছ! লাল ইঁটের শক্ত বাড়িও ভেঙে পড়তে পারে!
গাছটা কেটে ফেলল সে। মাটিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ল গাছের কাণ্ডগুলো। গুঁড়িটা পড়ে থাকল, একা। গুঁড়ির ওপর এসে বসল গোল্ডফিঞ্চ পাখি। হয়তো ও ক্র্যাব আপেল ফুলগুলোর কথা ভাবছিল। গোল্ডফিঞ্চ পাখির স্মৃতি থাকে।
মাটিতে পড়ে থাকা গাছের কাটা-ছেঁড়া হাত-পাগুলোর দিকে তাকিয়ে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে!

ক্রিস্টালের আলো
—–
আমি হারিয়ে ফেলিনি আমার ইতিহাস। ঘরে ঘুরে ঘুরে দেখি, পড়ে আছে আমার সব শৌখিন টুকরো। ধুলো পড়েছে, তবু সবাই ঝিলমিল করছে। ক্রিস্টালে আলো পড়ে।
কোনো কিছু নেড়ে দেখতে সাহস হলো না আমার। হাত থেকে পড়ে স্মৃতি ভেঙে গেলে মানুষ বাঁচে না।
মানুষের জীবন অমৃতের গল্প।

বাসন
—-
মেয়েটি যখন খুব ছোট ছিল, বাবা-মায়ের বাড়িতে ছিল, সে বড় আহ্লাদে ছিল। ওর একটা কাঁসার বড় জামবাটি ছিল। গরমকালে সে বাটিতে ঘন দুধ দিয়ে, আম-কাঁঠালের রস দিয়ে মেয়েটি দুধভাত খেত। দুধের সর ওর বড় প্রিয় ছিল। ঠাকুমা মেয়েটির জন্য বাড়ির সকলের চোখ বাঁচিয়ে সরটুকু আলাদা করে রাখত।
বরের বাড়িতে মেয়েটি এল। কোনদিন মেয়েটির জন্য কেউ দুধের সর আলাদা করে রাখল না। মন খারাপ করতে করতে মেয়েটি ভাবল, ‘মানুষের প্রথম বাসন মাটির তৈরী ছিল। মাটির যা কিছু তা কবরে মিশে যায়।’
******************************

Leave a Reply