পিন্টু ঘোষের কবিতা
প্রশ্নের উত্তর:
কবিতা একলা চলোরে নীতিতে নয়, কবিতা মানুষের ভিড়ে যাক, অলিগলি ঘুরে আসুক, পরিচিতি পাক।
রথযাত্রা
কেউ বলে দেবতা, কেউ বলে রসকলি আঁকা পাষাণ
আমরা শুধু দেখি – রথ আসে রথ যায়
যেভাবে সুতো ধরে টানলে
একে একে কাছে আসে বাবা-ঠাকুরদা-বংশ পরিচয়
যেভাবে কাছে আসে
ছলনার ঝাউবন, জারুলের ছায়া
যেভাবে কাছে এলে সুখ, দুঃখ বাঁকা হাসে
আর দুঃখ এলে সুখ চলে যায়…
______
সময়
ক)
দীর্ঘদিন শোষণের পর
ডানা মেলে মধুকর
তাকে কাছে ডাকে প্রফুল্ল কুমারী
ঝুমে যাওয়া ফুলের পাশে আমি
রাখি আমার কৃপণ হাত…
মাথা তোলে ফুল ; অট্টহাসি হাসে
সময় ও ঈশ্বর
খ)
মাঝপথে সময়ের হাত ধরি
তাকে আলিঙ্গন করি
সে আলতো ছুঁয়ে দেয় আমার চিবুক
উন্নত চঞ্চু দিয়ে তুলে আনে কিছুটা সুখ
শিহরিত হই
রোমাঞ্চিত হয় শরীর
নিমেষে ফিরে পাই হারানো শৈশব …
গ)
শৈশবের কথা ভেবে ভেবে
সময়কে আঁকড়ে ধরি
সে-ও সুযোগ বুঝে দংশন করে দেহ
ন্যুব্জ হয় শরীর
ন্যুব্জ শরীর দেখে সময়ের ডাকনাম জোটে
ঠাকুমা বলে অদৃষ্ট
মা বলে পোড়াকপাল
বাবা বলে ভাগ্য
আমি তাকে রোজ লুব্ধক নামে ডাকি …
____________
উড্ডীন
শ্রেণিকক্ষে দিদিমনি ভূগোল পড়াচ্ছেন
…এই হল গিরিখাত…
…এভাবে সৃষ্টি হয় গ্রস্ত উপত্যকা, স্তুপ পর্বত…
গোটা শ্রেণিকক্ষ দিদিমনিকে অনুসরণ করছে আর
দেখছে— গিরিখাত
গ্রস্ত উপত্যকা
স্তুপ পর্বত
দিদিমনি এবার পাত সঞ্চলন তত্ত্ব শুরু করলেন—
…ধরো একটা পাত আরেকটা পাতের দিকে…
শ্রেণিকক্ষের প্রত্যেকের মন
এবার কাছে আসছে
উচাটন মনের মধ্যে
ফড়িং উড়ছে
উড়ছে তো উড়ছেই…
ধরতে পারছে না
***********************
