You are currently viewing নাভীপদ্মে সঞ্চিত ধোঁয়া নিয়ে বিষ্ণুযাত্রা > নাহিদা আশরাফী

নাভীপদ্মে সঞ্চিত ধোঁয়া নিয়ে বিষ্ণুযাত্রা > নাহিদা আশরাফী

নাভীপদ্মে সঞ্চিত ধোঁয়া নিয়ে বিষ্ণুযাত্রা

নাহিদা আশরাফী

 

সূর্য ধীরে নিভে গেল। আকাশে গোলাপি একটা রঙ আস্তে অন্ধকারে হারাল। এক

বৃদ্ধকে ঘিরে আমরা বসে আছি কিছু তরুণ তরুণী। বহুকালের প্রাচীন।  আমাদের

কিছু বলবে ভেবেছেঅথবা,

আমরা কিছু শুনব অপেক্ষায় রয়েছি। আমরা কোনো কথাই বলছি না।

তারপর একটি দীর্ঘশ্বাসের মতো শব্দ– বৃদ্ধটির। নাভীপদ্মে সঞ্চিত যেন বহুকালের

গাঁজাময় গেজানো ধোঁয়া সে অসীমে ফুঁকে দিল।

আমি নেইহয়ত ছিলাম’, শুরু হল এইভাবে তার কথা।

সে মরে গেছে কি বেঁচে আছেতা নিয়ে আমরা ভাবছি না তখন।

কে জানেসে হয়ত শেষ থেকে শুরু করেছিল। তবে তার গল্প শুরু হলো সে সময়

যে সময়টিতে কেউ আমরা আর তৈরি নই এই গল্পটি শোনবার জন্য।

কিন্তু শুরুতেই একটি প্রাচীন তরবারির কর্মসিদ্ধির কথা বলেসে আমাদের থমকে

দিয়েছে। তারপর কবেকার ওর জীর্ণ ব্যাগ থেকে রাশি রাশি ঝরা পাতার মতো টাকা

টাকাএকে একেমুঠো মুঠো বের করলআর তাতে আগুন জ্বালাল।

পৃথিবীর যতসব সুগন্ধি বৃক্ষের পত্রপোড়া মাংস আর ধূপগন্ধের মতো,

চন্দন বনের হাওয়ায় কোথায় যেন হারিয়ে গেল সেইসব।

আমরা আবার ব্যাকুল হলাম– কী বলেশুনবো ভেবে ঠিক তখুনি

সে তার পলকা দাড়িতে কিছুক্ষণ হাত বুলালোমাথা থেকে টুপিটি পকেটে নিল এবং

হাসলতীব্র মৃদুস্বরে বলল, ‘এবার তোমরা

তারপর দ্রুত ভিড়ের ভেতর কোথায় সে ডুব দিল

কোনদিনতারপরেতাকে আমরা আর দেখি নি।

                                              — এক বৃদ্ধের গল্প (ভোরের মন্দির ,২১/২২.১১.৯২)

 

আশির দশকের কবি বিষ্ণু বিশ্বাস। ‘ভোরের মন্দির’ এ যে নিজের অমিত শক্তি আর তেজ প্রকাশ করেছিলো কবিতার বেদীতে, কোন সে বিপন্ন বেহাগ তাকে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলো কবিতার মন্দির থেকে। লোকে ঘটা করে এই বিপন্নতার নাম দিয়েছে ‘সিজোফ্রেনিয়া’৷ জীবনানন্দ থেকে বিনয়, বিনয় থেকে বিষ্ণু এমন আরো কত কত কবি ! কিন্তু কেন? কেন লোকালয় ছেড়ে এমন করে কবিদেরই বারবার এইসব অভিজাত অসুখের নাম নিয়ে হারিয়ে যেতে হয়। এ সমাজ, এ  রাষ্ট্র, এ পৃথিবী খুব নীরবে একজন কবিকে খুন করছে নাকি প্রকৃতির এই নিরেট সন্তানদের ধারণ করার ক্ষমতা লোপ পাচ্ছে এই গোছানো সভ্যতার।  নাকি একজন শিল্পী যখন জগতের সন্তান হয়ে যায়, তখন সমাজ রাষ্ট্র তাকে  মেনে নিতে পারে না।

 

বিষ্ণু বিশ্বাস হঠাৎই হারিয়ে গেল। অভিমানী বালকের মত। পথ চিনি তবু বাড়ি ফিরবো না, বন্ধুরা কাছে আসলেও বলবো না সেই অব্যক্ত ক্ষোভ আর কষ্টের কথা। আমি স্রেফ হারিয়ে যাবো- এই কী ছিলো বিষ্ণুর হাহাকার! এই কী ছিলো বেদনার অবয়ব! পারিবারিক জীবনও বড় রহস্যময় ছিলো তাঁর । একদিন বাড়ি ফিরে যে ছেলে দেখে মা তার চলে গেছে অন্য দেশে তখন মানসিক অবস্থা বুঝবার মত সত্যিই কি কেউ ছিলো তাঁর পাশে?কেন এমন করে চলে গেলেন মা? কাউকে হয়তো বলতে পারেননি এমন বেদনার কথা , হৈ হুল্লোড়ে মাতিয়ে রেখেছেন সবাইকে অথচ ভেতরে ভেতরে  কী ভীষণ নিঃসঙ্গ ! শাসন বা সোহাগ , পথের দিশা বা পাথেয় কিছুই তো নেই। তাই হারিয়ে যাওয়াই সহজ মনে হয়েছে  হয়তো।

 

কিন্তু সেই যে ‘কেউ ভোলে না কেউ ভোলে’র মত কেউ কেউ ভলেনি কবিকে। কবিও তেমনি ভোলেনি তার বন্ধুদের। হেমন্তের সেই গানের মতো,

 

“ফুরিয়ে যাওয়া দিনের আলোর শেষে

আসলো নেমে গভীর অন্ধকার

আধেক খোলা দ্বারের আড়াল থেকে

ভালোবাসার প্রদীপ খানি ধরলো তুলে ধরলো কেউ

দেখা গেলো দুটি নয়ন তার…”

 

তেমনি করে কেউ তার বন্ধু, কেউ তার স্বজন, কেউ তার কবিতানুরাগী, ফুরিয়ে যাওয়া দিনের আলোর শেষে গভীর অন্ধকার নেমে আসার আগেই তাকে খুঁজে পেয়েছে। সন্ধানী বাতাস সীমানা পেরিয়ে তাদের নিয়ে গেছে ইচ্ছে করে হারিয়ে যাওয়া বন্ধুটির কাছে। অন্তর্ধানের আগের  বিষ্ণু বিশ্বাস কেমন ছিলেন? কবিতা তাকে কতটা গ্রাস করেছিলো ? প্রায় পনেরো বছর পরে ফিরে পাওয়া সেই মুখ কেমন ছিলো? এইসব হাজারো প্রশ্ন মাথায় নিয়ে আমি তার বন্ধুদের খুঁজতে লাগলাম। পেয়েও গেলাম । কিন্তু সবার কাছে চট করে পৌঁছে যাওয়াটা তো সহজ ছিলো না। তবে সৌভাগ্যবশত দু বাংলার দু’জনকে পেয়ে গেলাম যারা কবির অনেকটাই কাছের ছিলেন এবং এখনো আছেন বলা যায়। ফলত কিছু প্রশ্নের উত্তর আমি খুব নির্ভরযোগ্যভাবে পেয়েছি-এমন দাবি করতেই পারি। বিষ্ণু বিশ্বাসের অগ্রজ বন্ধু ও এককালের সহযোদ্ধা লেখক ও প্রকাশক নিশাত জাহান রানার কাছে যখন গেলাম তখন সমর্পিত বিকেলের বেদনা মাখা রোদ আমার থেকে নিজেকে একটু আড়াল করে দাঁড়িয়ে আছে; অনেকটা কবি বিষ্ণুর মতই। সৌজন্য সংলাপে আমরা খুব একটা যাইনি। কারণ উভয় পক্ষই বিষ্ণুতে বুদ হয়ে ছিলাম। তবু কফি এলো । কথার উষ্ণতায় কফি ঠাণ্ডা হল।

 

কবি বিষ্ণু বিশ্বাসের সাথে পরিচয়ের সূত্রপাত সম্পর্কে জানতে চাই 

 

নিশাত জাহান রানা-  বিষ্ণুকে মূলত চিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন স্বনন থেকে। ১৯৮১ সাল। তখন  সামরিক স্বৈরাচারের সময় স্বননে বেশ সক্রিয় ছিলো। কিছুদিন পরেই বিষ্ণু এলো। এর এক বছর পরেই আমি স্বননের আহবায়ক হয়ে গেলাম। বিষ্ণু আর বিশিষ্ট লেখক ফয়জুল ইসলাম যুগ্ন আহবায়ক হিসেবে এলো। তখন সে ইতিহাসের ছাত্র হলেও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তার উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মত।

 

 বিষ্ণু কী একাডেমিক পড়াশোনা শেষ করেছিলেন

 

নিশাত জাহান রানা- এখানে কিছু প্রসঙ্গ না বললেই নয়। যেহেতু সামরিক শাসনের সময় রাজনৈতিক আন্দোলন তূলনামূলক কম ছিলো। যা ছিলো সব শ্লোগান, মিছিল মিটিং এ আবর্তিত । তবে এর মধ্যে সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং তার মধ্য দিয়ে প্রতিবাদটা বেশ জোড়ালো ছিলো বলা যায়। আমাদের একটা গ্রুপ (সিনিয়র জুনিয়র মিলিয়ে ) যারা লেখালেখিতে তখনই বেশ সক্রিয় ছিলো তার মধ্যে কবি অসীম কুমার দাস (তখন ছাত্র ছিলেন এবং আমার সিনিয়র ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন)  ছিলেন বেশ পণ্ডিত। ফলত তাকে ঘিরে এক গুরুভক্তের দল গড়ে উঠেছিলো যারা প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম বা আচার বিধির বাইরে গিয়ে একটা ভিন্ন স্রোতে চলার প্রবনতা তৈরি করেছিলো। ফলত বিষ্ণুর অনার্সটা শেষ হলেও এম এ না করেই ঢাকায় চলে এলো স্রেফ লেখালেখি করেই জীবন কাটিয়ে দেবে এমন ভাবনায়।

 

ঢাকায় আসবার কতদিন পরে তার ভেতর এই বিষন্নতা বা হতাশা তৈরি হল। 

 

নিশাত জাহান রানা- না, ঢাকায় এসে তৈরি হয়নি।ঢাকায় এসে হয়তো বেড়েছে কিন্তু ওর স্বভাবের মধ্যেই এটা শুরু থেকে ছিলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর থেকেই তো ওকে চিনি। তখন থেকেই ওর ধরণটা ছিলো আলাদা। সারাক্ষণ গান গাইতো। কবিতা তো লিখতোই। কেমন একটু আলাদা ধাঁচের। আমরা খুব স্নেহ করতাম। কিন্তু ও আর দশজনের মত ছিলো না। ওর রুমমেট যারা ছিলো তারা ওকে আরো ভালো করে জানতো। ধরো কোথায় বেরুবে। বসে আছে তো বসেই আছে। আবার কোথাও গিয়েছে তো উঠবার নামই করছে না। ধরণের মধ্যেই শ্লথভঙ্গি ব্যাপারটা ছিলো।

 

বেশতাহলে আপনার ভাষ্যমতে তার এই উদাসীনতাবিষন্নতা স্বভাবজাত বলেই মনে করছেন আপনি। এমন নয় যে কোন নির্দিষ্ট কারণে এমনটা হয়েছে। এবার একটু কবিতার প্রসঙ্গে আসি। আপনি একজন লেখক এবং একই সঙ্গে প্রকাশক। ‘ভোরের মন্দির‘ আপনার প্রকাশনা থেকেই প্রকাশ পেয়েছে। বিষ্ণু বিশ্বাসের কবিতায় কোন শক্তি বা স্বাতন্ত্র্য স্বর আপনি খুঁজে পেয়েছেন যে কারণে আপনি বইটি প্রকাশে উদ্যোগী হলেন। 

 

নিশাত জাহান রানা- প্রশ্নের উত্তরে আসছি পরে কিন্তু শুরুতেই স্বীকার করে নেয়া ভালো যে ওর লেখার শক্তি বা অসাধারণত্বের কারণে এই বই আমি প্রকাশ করিনি বিষ্ণু আসলে আমাদের এত স্নেহের ছিলো বিশেষ করে আমার যে তার এই হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়াটা ঠিক মেনে নিতে পারিনি। আর নিখোঁজ হবার পূর্বের কিছু ধাপ তো ছিলো যার প্রতিটি অংশের নিবিড় পর্যবেক্ষক হিসেবে আমি  ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলাম। তাই ওর এই অন্তর্ধান আমাদের জন্য এতটাই পীড়াদায়ক ছিলো যে এটা মানতে পারাটা খুব কষ্টের ছিলো৷ আমরা জানতেই পারছিলাম না ও বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে। এই সময়টায় আমরা যারা ওর পাশে ছিলাম ওর লেখাগুলো জড়ো করছিলাম। মূলত নব্বই দশকের একেবারে শুরুর দিকে ও নিজেই একটা পাণ্ডুলিপি গোছাতে চাইছিলো। ওর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কয়েকখানা কবিতা একটা ফাইলের মধ্যে গুছিয়ে কয়েকজনের সাথে আলাপ করেছে যে বইটা করতে চায়। বিষ্ণুর অন্তর্ধানের পরে ওর খুব ছোটবেলাকার এক বন্ধু আমাকে ফাইলটি দেয়। তাতে যে ক’টি কবিতা ছিলো তা পুরো বইয়ের দশভাগের এক ভাগের মত। আমি ওটা নিয়ে রেখে দিলাম। পরবর্তীতে অনেক দিন যখন ওর কোন খোঁজই পাওয়া যাচ্ছিলো না তখন মনে হল অন্তত ওর লেখাগুলো এক জায়গায় থাকুক।এর মধ্যে সাত-আট বছর কেটে গেছে। তখন বিভিন্ন জায়গায় যেখানে যত লেখা ওর প্রকাশ পেয়েছে সব জড়ো করতে শুরু করলাম। এক্ষেত্রে ওর বন্ধুরাও বেশ সহযোগিতা করেছিলো। আরো একটা ব্যাপার ছিলো। শেষের দিকে আমি যখন পত্রিকায় কাজ করতাম তখন প্রায়দিনই এক পাতা দু’পাতা করে লিখে এনে আমার কাছে দিয়ে বলতো,’তোমার কাছে রেখে দাও, নইলে হারিয়ে যাবে।’ এভাবে আমার কাছেও বেশ কিছু কবিতা জমা হয়ে রইলো। পরে এইসব জড়ো করেই বই আকারে তা প্রকাশ করা হল। কাজেই বই করার ব্যাপারে যতটা না ওর লেখার শক্তি নিয়ে ভেবেছি তার চেয়েও বেশি কাজ করেছে তার সৃষ্টিগুলোকে হারিয়ে যেতে না দেয়ার ইচ্ছেটা।

এবার বলি ওর কবিতার শক্তি নিয়ে। ওটা যদি না থাকতো তবে তো এই হারিয়ে যেতে না দেবার ইচ্ছেটাই জাগতো না। কত মানুষ লিখছে, কত লেখা হারিয়ে যাচ্ছে। জগতে কার বা কী এসে যায়। ওরটাও হয়তো যেতো। কিন্তু লেখালেখিটাকে ও সবসময় গুরুত্বের সাথে নিত। সিরিয়াস ছিলো। ওর জীবনের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশের মতই ভাবতো। ছাত্রাবস্থায়ই পাঠের অভ্যাসটা খুব ছিলো। তখনই তার কাছ থেকে পরিনত সব কবিতা পেয়েছি আমরা৷ একেবারে নিজের ভেতরে মগ্ন হয়ে যাওয়া বা গহিনে ঢুকে যাবার শক্তিটা ছিলো ওর মধ্যে। আর এটাই ওর লেখায় ফুটে উঠেছে।

 

কবে জানলেন বিষ্ণু বিশ্বাস বেঁচে আছেন? জানার পরে আপনি তাকে দেখতে দত্তঘড়িয়ায় গিয়েছিলেন। কেমন ছিলো সেই সময়ের অনুভূতি? কবি কী আপনাকে চিনতে পেরেছিলেন?

 

নিশাত জাহান রানা- ৯৪ তে হারিয়ে যাবার পর ফের এগারোতে এসে কবির খোঁজ পাওয়া গেল। তার মানে প্রায় ১৬/১৭ বছর পরে । অই সময়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে কেউ একজন কবি বিভাস রায়চৌধুরীর দেয়া পোষ্ট শেয়ার করে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলো আমি যেই বিষ্ণু বিশ্বাসকে চিনি , উনি সেই কিনা। তার আগে আমরা উড়োউড়ো খবর শুনি ।কখনো শুনি ইন্ডিয়াতে ,কখনো বাংলাদেশের ঝিনাইদহে। এর মধ্যে ওর বইটা বেরিয়ে গিয়েছিলো দু হাজার দশ এ । আমরা বহেরা তলায় গোল হয়ে দাঁড়িয়ে বইটা নিয়ে একটু মোড়ক উম্মোচনের মত করেছিলাম। হাসান আজিজুল হক স্যারও উপস্থিত ছিলেন কারণ স্যারও বিষ্ণুকে চিনতেন ও স্নেহ করতেন। যখন এই আয়োজনটি চলছিলো তখন ওখানে বেশ কয়েকজন ভারতীয় কবিও ছিলেন। তার মধ্যে একজনের নাম মনে আছে । সুনীল সোনা । পরবর্তীতে তিনি আমাদের এত কথা শুনে বিভাস রায় সহ আরো কয়েকজনকে নিয়ে রানাঘাটের কাছে দত্তফুলিয়াতে কবিকে সনাক্ত করেন। তবে শত চেষ্টা করেও বিষ্ণুকে দিয়ে কথা বলানো সম্ভব হয়নি। ওর চিকিৎসা যারা করছিলেন তারাও বললেন, অপরিচিত কারো সাথে কথা বলছেন না । কিন্তু পরিচিত কাউকে পেলে হয়তো কথা বলবেন। তখন আমি বিষ্ণুর কাছে যাবার প্রস্তুতি নেই। আমাকে দেখে সঙ্গে সঙ্গেই চিনে ফেলেছিলো। আসলে এত বছর পরে সেই দেখার অনুভূতি বুঝিয়ে বলার নয়। আমিও কেঁদে ফেলেছিলাম বলতে গেলে। চেনার উপায় ছিলো না। ইয়া লম্বা লম্বা দাড়ি। বড় বড় নখ। সবচেয়ে কষ্ট লেগেছিলো স্বাস্থ্যটা একদমই ভেঙে গিয়েছিলো।

 

যতদূর দেখেছি সোশ্যাল মিডিয়াতে তখন তাকে নি