You are currently viewing মো. সুমন মিয়ার কবিতা

মো. সুমন মিয়ার কবিতা

মো. সুমন মিয়ার কবিতা

 

নিষ্ফলা লজিং মাস্টার

রাত বাড়ছে, বিদঘুটে অন্ধকার, আলোর চুকেছে পাঠ;
মাস্টার, ও মাস্টার—
তোমার উপরে ফিটফাট, ভিতরে সদরঘাট।
হা হা হা …
বাতাসে আসে বিদ্রুপের ধ্বনি,
অন্তরাত্মা কেঁপে উঠে; চারদিকে শব্দের খিল খিলানি।

ভেসে উঠে এক নারীর ছায়া
পিছনে তাড়া করে বেড়ায় অতীত স্মৃতি,
কন্ঠটি বড়ই চেনা
হাতছানি দেয় নিষ্ঠুর নিয়তি।
সেই যে, পড়ার টেবিলে—
ছাত্রীটি— বীজ গণিত, পাটি গণিতের ফাঁকে,
অংক কষে সংসার জীবনের, রঙিন স্বপ্ন আঁকে।
‘যেখানে শোভা পাবে— একটা ছোট ঘর, সন্তানাদি
বাড়ির আঙিনা জুড়ে শিউলি ফুল আর মেঝেতে শীতল পাটি,
যাতে আসন পেতে মধ্যমণি হবে সামনে বসে থাকা মানুষটি।

হাতে হাত, মননে, প্রণয়ে, সঙ্গমের স্বপ্ন করে যতন,
জ্যামিতির কাটায় দৈঘ্য—প্রস্থে মাপে সংসারের আয়তন।

এটা বয়সের আবেদন, আবেগী মনের বাসনা
নয়ন যুগল হয় স্বপ্নভাসি,
বইয়ের পাতায় বড় বড় অক্ষরে ভাসে
মাষ্টার ‘তোমায় ভালবাসি’।

টেবিলে শব্দ হয় ঠকঠক করে, সম্ভিত ফিরে পায়—
‘মনযোগ দাও হে’ বইয়ের পাতায়,
সে যে বুঝে না, যাকে ঘিরে এত সব আয়োজন
সে কি না ব্যস্ত নিয়ে অন্যকিছু; মেকি যা তা’য়।

এত পানসে কেন? রঙ রস কিছুই কি স্পর্শ করে না!
মনে মনে আওড়ায়— ‘বড়ই বেরসিক! কিছুই বুঝে না,’
যাও, যাও আজ ছুটি!
সমাধান করে দিব অন্য কোনদিন, শরীরটা আজ ভাল যাচ্ছে না।

ছাত্রীর মাঝেও যে কিছু চলছে; সেটি বুঝতে হয় না বাকি,
শারীরিক অক্ষমতা; সেটা প্রকাশ করার নয়
ভালভাল কেটে পড়ি; মায়ার বন্ধন দিয়ে ফাঁকি।

কিছুদিন পর খবরে আসে ‘সুইসাইট’
দাগ কেটে যায়; এতসব খবরের ভীড়ে,
চাওয়া ছিল— ‘তাতে কি আসে যায়, সে সুখী হউক
অন্য কোথাও, অন্য কোন নীড়ে।’

এই মৃত্যুর জন্য কি আমি দায়ী? নিছক ছেলে মানুষী বৈকি!
শূন্যতাকে করে আপন,
বুকে খা খা করে একাকিত্ব, বড়ই পীড়া দেয় যাযাবর জীবন যাপন।

হৃদয় পোড়া আঘাত
আজ হয়েছে ভিষন ক্ষত,
কামনা বাসনা ছাড়া নিরাশ এই জীবন সংসার
নিষ্ফলা, অকেজো বৃক্ষের মত।
***********

 

বোকার স্বর্গে বসবাস

‘বোকা নাকি আপনি, যা বলেন জেদ ধরে থাকেন,
জানেন না কি তাও —
সে দিকেই চলতে হয়, যে দিকের যেই ভাও।
বুদ্ধিমান তো সে, যে পরিস্থিতি সামলে নেয়
প্রয়োজনে রূপ বদলায় ক্ষণে,
বৃষ্টির অনুকূলে না ধরলে ছাতা পস্তাতে হয় ভিজে
হায় হুতাশ করতে হয় নিজে নিজের সনে।’

‘বিপদে কেন পড়তে যাবেন ভাই
সেই ভাল— এড়িয়ে যান,
দেখেও না দেখার করে থাকেন ভাণ।’
‘কিন্তু সেটাতো ঠিক নয়, বিবেক বর্জিত, অন্যায়’
‘ছাড়েন তো ভাই, ওসব মামুলী ব্যাপার, করার কিছু নাই।
কে কারটা নিয়ে বলেন— ভাবে?’
‘বুঝবেন ভাই, যখন নিজেরটা একদিন যাবে।
আমি ওসব পারবো না, কথা দিয়েছি বিবেকের সাথে;
তাছাড়াও ন্যায় অন্যায় বলে তো আছে একটা কথা,’
‘কে কি বলবে, বলুক গিয়ে পাছে
আপনি ওসব ভাবছেন অযথা।’
‘পাছে কেন? জবাব দিতে হবে না একদিন!
হাশরে রোজ,
অন্যের হক— সে শুধু অর্থকড়িই নয়, ন্যায় কথা বলা,
কার অধিকার হচ্ছে কিনা খর্ব সেও নিতে হবে খোঁজ।’

মুখখানা পাংশুবর্ণ করে—
‘থাকেন আপনি আপনার নীতিকথা নিয়ে ঘরে,
অনেক পথ পারি দিতে হবে আমায়
অনেক ব্যস্ত আমি— চল্লুম, আপনি থাকেন পেছনে পরে।’
‘মুখে মুখেতো— সে ই ধর্ম দেখান
কাজের বেলায় এত স্বার্থ দেখেন যে,’
‘ওটাতো সবাই দেখে
ছাপিয়ে যান না ভাই, আপনি বাস করছেন এখনও বোকার স্বর্গে।’

===============