You are currently viewing চতুষ্কোণ-চার কবির কবিতার ভেলা

চতুষ্কোণ-চার কবির কবিতার ভেলা

দলিলুর রহমান
ভালোবাসি
(আনাতা নি আইতা কোতে, জাপানি গান অবলম্বনে)
আমাদের ঘরের দরজা
বন্ধ করতে করতে
অতীত স্মৃতি কে বিদায় দিলাম
আমি এখন আবার হাসি
আমার নতুন জীবন চলে
আমার মত
কিন্তু রাতে আমি ঘুমাতে
পারিনা
কেবল তোমাকে ভাবি
তোমাকে আবার দেখতে চাই
আমার মনে পড়ে তোমায়
আমি নীরবে চোখ মুদি
আমি তোমার পেছনে পেছনে
হাটতে চাই
আমি তোমাকে নিয়ে গড়ে
তুলতে চাই সুখের নীড় আর
শান্তির ভবিষ্যৎ
আমি বুঝতেই পারিনি
আমি তোমায় কত ভালবাসি
এখন আমি শুধু তোমাকে দেখছি
শুধু তোমাকেই চাচ্ছি
আমাকে সমর্পন করছি
তোমার কাছে তোমার
ভালোবাসার কাছে
তুমি অবশ্যই ভুলোনি
আমাদের একান্ত নিজস্ব
আনন্দের সময়
ভুলোনি নিশ্চয়ই আমাদের
ভালোবাসা
যা আমাদের সময়
তাই আমি কানে কানে বলি
বারবার বলি
আমি তোমায় ভালোবাসি।
কেউ শেখে না
বুড়ো পৃথিবীর বয়স অনেক তুলনায় মানব সভ্যতার বয়স অনেক অনেক কম হলেও তবু তার আছে ইতিহাস আদি সব অশ্বারোহীরা দুর্গা শিব শিখন্ডীরা অন্তর্হিত হল অন্তর্হিত হলো রোমান মোঙ্গলদের তেজি ঘোড়া হাত বদল হইতেই থাকলো জেরুজালেমের এসবের ফলাফল রক্ত রক্ত রক্ত হত্যা হত্যা হত্যা এ ইতিহাস থেকে কেউ শিখলো না কিছু ইংল্যান্ডের রাজা রানীরা এলো আর গেলো কাপাল ধরা সূর্য কেউ ডুবতে দিলো না তাঁদের সাম্রাজ্য সেই তারাই একদল সেনা পাঠালো খাইবার গিরিপথে কাবুল দখলের আশায় তারা এগুলো মরল মরল মরল কাবুল পৌঁছে দেখে কেউ বেঁচে নেই সোভিয়েত ইউনিয়ন শিখেছিলো কিছু? নেংটি ফেলে আফগান থেকে পালালো। আমেরিকা ভিয়েতনামে যেয়ে জালাল শস্যের ক্ষেত ছোট ছোট বাড়ি লক্ষ লক্ষ বোমা কিন্তু হো চি মিন অনড় মৃতদেহের জঙ্গ মে ভরে গেল আর্লিংটন সেমিটারি ডিক বোশ রামসফিলরা ইরাকে যেয়ে‌ সমুদ্রকে বানাল পাথর বালুকে রক্তে রাঙাল আর এখন বাইডেন বলছেন তালেবানকে দয়া করে শুধু পালাতে দাও মিডিয়া চমকে উঠে ভিয়েতনামের ছবি দেখে আফগান সাইগণ আফগান সাইগণ হ্যাঁ তালেবান বলে পালাবি বটে তবে বেয়োনেটের আগায় ঝুলিয়ে রেখে দেব তোদের পাছার কাপড় ইতিহাস থেকে কেউ শেখে না।

বাস্তব অন্ধকার

এ দুনিয়ার কতটুকু জানি
আধ-পৃথিবী অন্ধকার
আর আধ-পৃথিবী আলো
এক পৃথিবী ডাঙায়
আর তিন পৃথিবী জলে।

দুনিয়ার কতটুকু জানি
স্থির হয়ে বসে আছি রকে আড্ডায়
গ্যালিলিও – হিটলার – মার্টিন লুথার
বিতর্কে কান পাতা দায়
পৃথিবীতো বসে নেই ….
নিয়ত বানিয়ে যায় নতুন অধ্যায়।

দুনিয়ার কতটুকু জানি ….
সাগরের নীচেও এক জগৎ-সংসার
অতলের নীচে আছে সচল সমাজ
সেখানে কি পৌঁছায় সূর্যের কর !

এক টাইটানিক অন্ধকার নিয়ে…
পৃথিবীর সবকিছু জানা হয়ে গেছে
বারমুডা ট্র্যাঙ্গেল ব্যারেন আইল্যান্ড
মাঝে শুধু জল আর জল
মেপে যাই নিখুঁত নটিক্যাল।

আকাশের নীলে ভরা গুটি গুটি তারা
আলোকবর্ষ জুড়ে মহাশূন্যতা
আলোকে আলোকে ভরা মিল্কি-ওয়ে
মাঝে শুধু অন্ধকার …. অজানার
আলোকবর্ষ জুড়ে ,
এক গ্যালাক্সি অন্ধকার নিয়ে
মহাবিশ্বের সবকিছু জানা হয়ে গেছে !

ধর্মের সিলেবাস

এ ধর্মে সিলেবাস সোজা !
এ ধর্মে মেলে টাকা মেলে নিরাপত্তা
এ ধর্মে শুধু মেলেনাকো শিক্ষা।

মেলে খুন ধর্ষণে ছাড়
মেলে প্রভাবীর সায়
মেলে প্রভাবিত রায় ,
এ ধর্মে অমানুষ দলেদলে জোটে
ঋণশোধে সম্মোহনী অমূল্য ভোটে।

এ ধর্মে সিলেবাস সোজা
আছে হিংসা আছে ঘৃণা
গুরু পাপ লঘু দন্ড
থেমিসের মানদন্ড অসহায় আঁখিবন্ধ
এ ধর্মে অধর্মের তেজ
মানবতা এ বাগানে মানা।

ধর্মের সিলেবাস অন্য
সে ধর্ম …. নিজের ই জন্য
ধর্ম সে ধারণে , ধর্ম সে অন্যের পালনে
শান্ততা প্রেম আর মননের সুস্থতা
একা-একা একা-একা একা-একা।

দরকার নেই সংঘবদ্ধতা
দরকার নেই জিহাদের হানাহানি
মানুষকে আজ মানতেই হবে
মানুষের চেয়ে পশুরা ধর্মপ্রাণী।

বাঘ কি কখনো ঝাঁপায় আরেক বাঘে
হরিণ কখনো আরেক হরিণ মারে
বনের পশুরা দেখে চমকায়
ধর্ম হুকুমে অপ্রয়োজনে
খুন ধর্ষণ মানুষ-অমানুষ করে।

হত্যাকারী

কৌশিক চক্রবর্ত্তী 

 

মেয়েটি লুকিয়ে দেখে হত্যাকারী বেঁধেছে গোধূলি

ধার্য গোপনতা চিরে তামরস চেয়েছ কোথাও

জটিলতা ভেদ হলে আমিও শরীর বেঁধে তুলি

হোক না কদর্য নেশা, হত্যাপথে ঠিকই ফিরে যাও।

 

নদীর খেয়াল নেই কত নুড়ি জন্মেছে অচীরে

খর্ব হলে নাশকতা চিনব এসে ফুলেল প্রাচীর

দুইপাশে খোলা বঁটি, মধ্যপথ দৃশ্যত গভীরে

খোলা শস্ত্র দাবী করে জন্মহীনা প্রেয়সীর শির।

 

অন্নদাতা নয় কেউ, প্রকৃতই দেখা হন্তারক

গভীরে যাওয়ার ছলে গেছি একা নষ্ট নীলবনে

হত্যাকারী ফিরে গেছে, ফেলে গেছে উদাত্ত দুচোখ

মেয়েটি দেখবার ছলে কেবলই প্রেমের কথা শোনে।

 

অম্লস্বাদ চেনা খুব, মিষ্টতার সঙ্গে কিছু দেনা

খুনের পর্যাপ্ত আগে ধুয়েছ হাতের তালুরেখা

ঝলসে গেছে মোহনাও, জোয়ারের অস্বস্তি মানছেনা

হত্যার কৌশল শুধু সেই নদীখাতে চেয়ে শেখা।

 

এবার বিকেল এলে ঘিরে রাখবে অশনি সংকেত

দক্ষিণের নদীপাড় হত্যা হবে গোধূলি সমেত।

 

দালান জাহান

বিস্ফোরণ 

 

ভাষা আটকে গেলে

স্বর্গ থেকে নেমে আসে মিনার্ভা মেঘ

এবং ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ত খেকো পাখিদের উপর।

ভাষা আটকে গেলে বুকের পাঁজরগুলো

তীক্ষ্ণ তীরের মতো ছুটে যায়

আবহমান সমুদ্রের দিকে।

 

ভাষা আটকে গেলে আটকে যায়

নিঃশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে থাকা

সুউচ্চ টাওয়ারগুলো।

ভাষা আটকে গেলে মানুষ বোবা হয়

বিস্ফোরণ হয়।

 

পিপাসা 

হৃদয় উপচে পড়ছে জল

চোখের পাপড়ি কখন অকূলের কিনারা

নদী এবং নদীরা বুকের অতল থেকে

বড়ো করছে প্রতিটি সার্চ ভাঙা ঢেউ

অলৌকিকভাবে খোলে যাচ্ছে

সিন্ধুক সমৃদ্ধ আকাশ দুয়ার

সাবধান সাধক

এখানে শব্দগুলো নারী!

লাল!

নীল!

অতঃপর বেগুনি বাড়ি

নগ্ন হয় ভাদর-পিপাসায়

তুমি নাইলন সুতোয় সেলাই করো মুখ।